সিরাজগঞ্জের চৌহালি উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের রেহাইপুখুরিয়া-বিনানই সড়কের চর নাকালিয়া পূর্বপাড়া খালের ওপর নির্মিত নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটি এখন এলাকাবাসীর গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সেতুটি এখন আর এলাকাবাসীর কোনো কাজেই আসছে না। বর্ষায় সেতুটির নিচ দিয়ে নৌকায় পার হতে হয়। আর শুষ্ক মৌসুমে এ খালে পানি শুকিয়ে গেলে হেঁটে পার হতে হয়। সেতুটির বাঁশের খুঁটি পচে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক স্থানের পচা বাঁশ খসে পড়েছে। সেতুতে উঠলে থরথর করে কাঁপতে থাকে সেতু। ফলে যানবাহন তো দূরের কথা মানুষজনই চলাচল করতে পারে না।
এ বিষয়ে চর নাকালিয়া গ্রামের নূর আলম, রওশন আলী মাস্টার, আনোয়ার হোসেন ও জুলহাস মোল্লা জানান, পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘের এ সড়কটির চর নাকালিয়া খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায়, এ সড়ক দিয়ে কোনো মালামাল পরিবহন করা যায় না। জমি থেকে ফসল আনতে হয় মাথায় করে। এ ছাড়া ঘরবাড়ি ও স্যানিটারি সামগ্রী পরিবহন কষ্টসাধ্য হওয়ায় অনেকের সামর্থ্য থাকলেও বাড়িতে ভালো ঘর ও স্যানিটারি ল্যাট্রিন তৈরি করতে পারে না। ফলে তাদের বাধ্য হয়ে কাঁচা পায়খানায় কাজ সারতে হয়। এ কারণে এ এলাকার পরিবেশ হুমকির মধ্য পড়েছে। শিশুদের নানা অসুখ-বিসুখ লেগেই আছে। এখানে সেতুর অভাবে এ গ্রামসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে চরম কষ্ট পোহাতে হয়। এখানে জরুরি ভিত্তিতে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণ খুবই জরুরি প্রয়োজন। এ ছাড়া সলিমাবাদ নদীর ওপর নির্মাণাধীন কংক্রিট সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ হলে ঢাকার সঙ্গে চৌহালি সদরের সড়ক যোগাযোগ উন্নত হবে। এর পাশাপাশি ঢাকায় যাতায়াতের জন্য প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ কমে যাবে। এতে চৌহালির মানুষ সকালে ঢাকায় পৌঁছে হাতের কাজ সেরে আবার বিকেলে বাড়ি ফিরতে পারবে। এতে তাদের যাতায়াত খরচও অর্ধেক কমে যাবে। তারা আরও জানান, এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে এ খালের ওপর একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানালেও স্থানীয় প্রশাসনের এদিকে নজর না থাকায় তাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। তারা অবিলম্বে এখানে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বর আবদুস সাত্তার জানান, এ খালের ওপর বাঁশের সাঁকোটি ২০১৮ সালের বর্ষায় নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘ দুই বছরেও এর কোনো সংস্কার না করায় সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে গেছে। ফলে এখন আর এ সাঁকো দিয়ে পার হওয়া যায় না। এখানে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণের অভাবে এলাকাবাসী খুবই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তাই এলাকাবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে এখানে জরুরি ভিত্তিতে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের এদিকে নজর নেই। তাদের বারবার বলেও কোনো কাজ না হওয়ায় এখন বলাই বাদ দিয়েছি।
এ বিষয়ে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাহ্হার সিদ্দিকী জানান, এখানে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু খালের প্রশস্ততা বেশি হওয়ায় প্রায় ৮০ ফুট দৈর্ঘের উপরে সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। তাই সেতুটি নির্মাণে দেরি হচ্ছে। তবে আশা করছি এ বছরের মধ্যেই হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে চৌহালি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন জানান, বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে। কিন্তু সেতু নির্মাণে কোনো বরাদ্দ না থাকায় সেখানে সেতু নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। চৌহালি উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মওদুদ আহাম্মেদ বলেন, ওখানে অচিরেই একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।