ঝালকাঠির পিপি হত্যায় ৫ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড বহাল

ঝালকাঠি জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হায়দার হোসাইন হত্যা মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) পাঁচ সদস্যকে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। আসামিদের ডেথ রেফারেন্ (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে গতকাল সোমবার

বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার ও বিচারপতি মো. শাহেদ নূরউদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়। উচ্চ আদালত প্রায় ১৪ বছর আগের ওই ঘটনায় আসামিদের আপিল ও জেল আপিল খারিজ করে দিয়েছে।

হাইকোর্টে যাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে তারা হলেনÑ বেল্লাল হোসেন, আবু শাহাদাৎ মো. তানভীর ওরফে মেহেদী হাসান, মুরাদ হোসেন, ছগির হোসেন ও আমীর হোসেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। তিনি জানান, পাঁচ আসামির মধ্যে মুরাদ, ছগির ও আমীর হোসেন আপিল করেন এবং তানভীরের পক্ষে জেল আপিল করা হয়েছিলে। আরেক আসামি বেল্লাল পলাতক থাকায় আপিলের সুযোগ পাননি। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আরও জানান, গত সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে রায়ের জন্য রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ধার্য রেখেছিল হাইকোর্ট। এদিন রায়ের কার্যকরী অংশ ঘোষণা করে আাদলত। রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, ‘দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সাক্ষ্য ও মামলার দালিলিক পর্যালোচনা বিবেচনায় হাইকোর্ট তার রায়ে ওই পাঁচজনকে বিচারিক  আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। আইন অনুযায়ী আসামিরা এখন  সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করতে পারবেন।’

ঝালকাঠি আদালতের পিপি হায়দার ঝালকাঠিতে জেএমবির আত্মঘাতী বোমা হামলায় দুই বিচারক নিহত হওয়ার মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন। ওই মামলা পরিচালনার সময়ই তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল জেএমবি। দুই বিচারক হত্যা মামলায় ২০০৬ সালের ২৯ মে জেএমবির শীর্ষ শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম, জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান আতাউর রহমান সানিসহ সাতজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল ঝালকাঠির আদালত। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ তাদের দণ্ড কার্যকর হয়। এর মাত্র ২০ দিন পর ওই বছরের ১১ এপ্রিল জেএমবির জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন হায়দার।

মামলার পর তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি জেএমবির পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। পরে ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারক হাকিম আদালত ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য বরিশালের দ্রুত বিচার আদালতে পাঠান। ৫৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর ২০১১ সালের ২৬ জুন দ্রুত বিচার আদালত মামলাটি ঝালকাঠির আদালতে ফেরত পাঠায়। এরপর ওই বছরের ১২ জুলাই ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির পুনর্বিচার শুরু হয়। ২০১৫ সালে ১১ ফেব্রুয়ারি ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ওই পাঁচ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।