শহীদ মিনার আড়াল করা স্থাপনা অপসারণ না হওয়ায় প্রতিবাদ

শ্রদ্ধাঞ্জলি দেননি মুক্তিযোদ্ধা

স্বাধীনতার যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সুনামগঞ্জ শহরে ফিরে মুক্তিযোদ্ধারা তৈরি করেন শহীদ মিনার। শহরের ডিএস রোডের এই শহীদ মিনার উদ্বোধন করেছিলেন বালাট সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর মোতালেব। সেটিই এখন জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। তবে এই শহীদ মিনার আড়াল করে সম্প্রতি দুই দিকে দুটি টিনশেড মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদের মুখে একটি মার্কেট অপসারণ করা হয়েছে। কিন্তু অন্যটি এখনো রয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদস্বরূপ মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর এবার শহীদ দিবসে মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেননি। তিনি নতুন আদলে শহীদ মিনার নির্মাণ কমিটির সদস্য। ওই মার্কেট অপসারণের দাবিতে তিনি আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়ে শহীদ মিনারের পক্ষে পক্ষভুক্তির আবেদন করেছেন।

মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর বলেন, ‘শহীদ মিনারকে অস্তিত্বহীন করার প্রয়াসে নির্মিত স্থাপনা অপসারণ না করায় প্রতিবাদস্বরূপ আমি শ্রদ্ধাঞ্জলি দেইনি। যতদিন শহীদ মিনারের জায়গায় দোকানপাট না সরানো হবে আমি সেখানে যাব না। আমি শহীদ মিনারের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা জানান, সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে সম্প্রতি দুটি মার্কেট গড়ে তোলা হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদের মুখে গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্বদিকের মার্কেটটি অপসারণ করা হয়েছে। পশ্চিম দিকের মার্কেটটিও অপসারণের দাবি জানানো হয়, কিন্তু তা হয়নি। 

উল্লেখ্য, তেঘরিয়া মৌজার ৪২১ নং দাগের জেএল ১৪৪ এবং ৯নং খতিয়ানের এই ভূমি নিয়ে সম্প্রতি বিরোধ দেখা দিয়েছে। ২০১৪ সালে শহীদ মিনারের এ ভূমি স্বত্বপ্রচার ও হালজরিপে জেলা জজের নামে রেকর্ডের জন্য ১৪৪/২০১৪ মামলা দায়ের করেন জেলা জজ আদালতের নাজির।