কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার রিপোর্ট তৈরি করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আদালত চাইলে তা যথাসময়ে উপস্থাপন করা হবে। গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন হাসপাতালের উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। তবে রিপোর্টে বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানাতে চান না তিনি। এদিকে গতকাল বিকেলে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন তার স্বজনরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক স্বজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা না দিলে যেকোনো সময়ে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, তার জামিন নিয়ে চলমান প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অবস্থা তাকে জানানো হয়েছে। তাদের আশা এবার সরকার তার জামিনের বিষয়ে রাজনীতির বাইরে গিয়ে মানবিকভাবে বিবেচনা করবে।
গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারসহ পাঁচ স্বজন। বিকেল ৪টার সময় তারা বেরিয়ে যান। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। শামীম এস্কান্দার ছাড়াও স্বজনদের মধ্যে ছিলেন ভাতিজা শাফিন এস্কান্দার, ভাতিজা বৌ অরণী এস্কেন্দার, ভাতিজা অভিক এস্কান্দার, ভাগিনা শাহরিয়া হক ও শামীম এস্কান্দারের স্ত্রী কানিজ ফাতিমা। গত বুধবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আইজি প্রিজন বরাবর আবেদন করেন শামীম এস্কান্দার।
এদিকে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, দিনের পর দিন চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এখন পঙ্গুপ্রায়। সর্বশেষ তার গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিয়েছে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণহীন। আর্থ্রাইটিস, হাইপারটেনশনসহ আগের রোগগুলো আছেই। এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো সময়ে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরিবারের পক্ষ থেকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারি একটি আবেদন বিএসএমএমইউ উপাচার্য বরাবর জমা দেন শামীম এস্কান্দার। এতে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার দ্রুত অবনতিশীল স্বাস্থ্যের পরিপ্রেক্ষিতে যেকোনো অপূরণীয় ক্ষতি এড়াতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত বিদেশি হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন। তার পরিবার ব্যয় বহন করবে এবং তাদের দায়িত্বে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেডিকেল বোর্ড যেন খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে সরকারকে সুপারিশ করে। এ আবেদন করার পর পরিবারের সদস্যরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। খালেদা জিয়ার সেজো বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, উন্নত চিকিৎসায় মুক্তির জন্য সরকারের প্রতি মানবিক আবেদন জানিয়েছেন। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় মানবিক দিকটা বিবেচনা করে তাকে মুক্তি বা জামিন দেওয়া উচিত সরকারের।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বুধবার খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার জামিনের আবেদন করেছেন। আবেদনে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে জামিন চাওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সগীর হোসেন লিয়ন সাংবাদিকদের বলেছেন, আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। জামিন পেলে তিনি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাবেন।
এর আগে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর এ মামলায় তার জামিন আবেদন পর্যবেক্ষণসহ খারিজ করে দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। তবে আবেদনকারী (খালেদা জিয়া) যদি সম্মতি দেন, তাহলে বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী তার অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।
গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া। পরিবারের অভিযোগ খালেদা জিয়ার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না।