চিকিৎসকদের বাংলায় ব্যবস্থাপত্র লেখার আহ্বান দুদক চেয়ারম্যানের

চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র বাংলায় লেখার অনুরোধ জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, আমাদের দেশের সম্মানিত চিকিৎসকরা যদি অনুগ্রহ করে ব্যবস্থাপত্রটি বাংলায় লেখেন, তাহলে আমাদের দেশের সামান্য অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন মানুষকে ব্যবস্থাপত্র বুঝতে অন্যের দ্বারস্থ হতে হয় না। আমরা বারবার অঙ্গীকার করি আবার তা ভঙ্গ করি। তাই আসুন, শুদ্ধ বাংলা চর্চায় অঙ্গীকারবদ্ধ হই। নিজেরা শুদ্ধ বাংলা জানার চেষ্টা করি। অঙ্গীকার রক্ষা করি। গতকাল শুক্রবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ভাষাশহীদদের স্মরণে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ইকবাল মাহমুদ প্রথমেই মহান ভাষা আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা এ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। একইসঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ভাষার জন্য বা স্বাধীনতার জন্য কেন এত প্রাণ বিসর্জন দিতে হলো? আসলে এটা ছিল প্রতিবাদ। প্রতিবাদকে হত্যার মাধ্যমে দমনের চেষ্টার কারণেই এত প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে। এই বিষয়টি আমাদের অনুধাবন করতে হবে। এসব আত্মত্যাগের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য হচ্ছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। তিনি বলেন, আমাদের মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এগুলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শেখায়। এ থেকেই আমাদের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। কারণ এগুলোই আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। এর থেকে শিক্ষা নিয়ে দুর্নীতি অনাচার বন্ধ করতে হবে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, নিগৃহীত হয়ে রাস্তায় পড়ে আছেন এমন মানুষকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে যাওয়ার ঘটনা যখন শুনি, তখন কেন যেন মনে হয় অন্যায়ের প্রতিবাদ করাটা কি আমরা ভুলে যাচ্ছি। অথচ জাতি গঠনে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শৃঙ্খলা, সততা, নিষ্ঠা ও মানুষের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আমার মনে হয়Ñ এগুলোতেও আমাদের কিছুটা ঘাটতি এখনো রয়ে গেছে। তিনি দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, পত্রিকায় যখন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অবমাননার সংবাদ দেখি তখন এক অব্যক্ত মানসিক যন্ত্রণা অনুভব করি। সারা বছর শহীদ মিনার দেখতে দেশি-বিদেশি অনেক মানুষ আসেন। তাই সারা বছর এর পবিত্রতা রক্ষার জন্য সার্বক্ষণিক ব্যবস্থাপনা থাকার প্রয়োজন।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদক রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। মানুষ তখনই এই প্রতিষ্ঠনটিকে গুরুত্ব দেবে, যখন আপনাদের কাজের মাধ্যম মানুষ অনুধাবন করবেÑদায়িত্ব পালনে আপনাদের অঙ্গীকার রয়েছে। আপনারা সততা, নিষ্ঠা ও সুচারুরূপে দায়িত্ব পালন করেন। মানুষের কল্যাণে আপনাদের অবদান আছে, তবেই এই গুরুত্ব টেকসই হবে।

দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি একসময় ছিল শুধু বাংলাদেশের গর্বের বিষয়, এখন বিশ্ববাসীর গর্বের বিষয়। জাতি হিসেবে এটা আমাদের সত্যিই গর্বের।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যখন শুনি কোনো কোনা বাঙালি পিতা-মাতা গর্ব করে বলেন তাদের সন্তান ইংরেজিতেই কথা বলে, ভালো বাংলা বলতে জানে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক। ভুলে ভরা অনেকের ইংরেজি কথা শুনি, অনেকের এমন ইংরেজি লেখাও দেখি। এগুলো নিয়ে মন্তব্যও করতে চাই না।

দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম বলেন, কথন, নাটক, চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলা ভাষার বিকৃতি দেখে আমরা বিস্মিত হই। ভাষার এই কদর্য বিকৃতি ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের নিদর্শন হতে পারে না। আঞ্চলিক ভাষা বা বিকৃত ভাষা থাকবে, কিন্তু তা মুখ্য ভাষা হতে পারে না।

তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য আমরা এই কঠিন সময় পার করছি। এর অবসান হওয়া উচিত। ভাষাশহীদদের শুধু একদিনের জন্য স্মরণ না করে, ৩৬৫ দিনই তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত।

দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের এই মহান আত্মত্যাগের তাৎপর্য আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। তাহলেই তাদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হবে।

আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন দুদকের তদন্ত অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. জাকির হোসেন, দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা শাখার পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান খান, ঢাকা বিভাগী কার্যালয়ের পরিচালক মো. আকতার হোসেন, উপপরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম, এএসএম সাজ্জাদ হোসেন ও মোঃ রফিকুল ইসলাম।