প্লেগ ছড়িয়ে পড়ছে। মানুষ মরছে। সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় চিকিৎসকেরা রাতদিন এক করে কাজ করছেন। কেউ নায়কোচিত ভূমিকায় প্রতিবেশীকে বাঁচাচ্ছেন, কেউ হচ্ছেন স্বার্থপর। এ যেন ঠিক নভেল করোনাভাইরাসের কল্পনা!
আজ থেকে ৭২ বছর ৯ মাস আগে প্রকাশিত ‘দ্য প্লেগ’ উপন্যাসে এভাবে একটি মহামারীর বর্ণনা দেন সাহিত্যে দ্বিতীয় কনিষ্ঠ নোবেল বিজয়ী আলবেয়ার কামু। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বইটি ঘিরে নতুন প্রজন্মের পাঠকদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। চাহিদা মতো বইয়ের জোগান দিতে প্রকাশক রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন।
কামুর মেয়ে ক্যাথরিন ১৪ বছর বয়সে বাবার লেখা এই উপন্যাসটি পড়েন। তার দুদিন বাদে দার্শনিক ও সাহিত্যিক কামু সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। তখন ১৯৬০ সাল। এখন ক্যাথরিন ৭৪ বছরের বৃদ্ধা।
‘দ্য প্লেগের বার্তা এখন সত্য হচ্ছে,’ গার্ডিয়ানকে ক্যাথরিন বলেন, ‘মানুষ আবার বইটি পড়ছে, এটি শুনে আমি আনন্দিত। কোনো বইয়ে যদি মানুষের কথা থাকে তাহলে তা আশা জাগায়। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
আলজেরিয়ার মন্দোভিদে জন্মগ্রহণ করা কামু অনেক কিছু করতেন। এর মধ্যে ফুটবলার পরিচয়ও ছিল। আলজেরিয়ায় জন্ম, ফ্রান্সে বাস। সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী ও দখলদার জার্মান হামলার প্রতিবাদকারী। নিষিদ্ধ পত্রিকা ‘কোঁবা’–এর সম্পাদক।
দ্য প্লেগের ব্রিটিশ প্রকাশক পেঙ্গুইন ক্লাসিক জানিয়েছে, তারা নতুন করে প্রতিদিন বইটির শতশত কপি ছাপাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র পাবলিসিটি ম্যানেজারের ভাষায়, ‘গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বইটির ২২৬ কপি বিক্রি হয়। এখন শুধু গত মাসে বিক্রি হয়েছে ৩৭১ কপি। চলতি মাসে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। তিন সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ১৫৬ কপি। এর মধ্যে গত সপ্তাহে গেছে ১৫০৪ কপি!’
কী আছে এই বইয়ে?
বইটিতে আলজেরিয়ার ওরান শহরে একটা মহামারী প্রতিরোধের গল্প বলা হয়েছে। সঙ্গে মন ছুঁয়ে যাওয়া মানবিক দৃশ্যায়ন। পাঠকের পড়তে পড়তে মনে হবে গল্পগুলো লেখা হয়েছে ‘চোখ দিয়ে’; সাহিত্যে যাকে বলা হয় ‘পাওয়ার অব ইমাজিনেশন’।
বইটির পরতে পরতে নিজের সাংবাদিক সত্ত্বাকে ফুটিয়ে তোলেন কামু। সেই সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজের রাজনৈতিক ও দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি অভিনবভাবে বর্ণনা করেন।
কামু যখন দ্য প্লেগ লেখা শুরু করেন, তখন তার দেশ জার্মানদের দখলে ছিল। একটি সম্পূর্ণ পরাধীন দেশে তিনি বাস করছিলেন। যেভাবে প্লেগের আবির্ভাবে ওরান শহরের সীমানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই তার দেশকে পুরোপুরি কারাবরণ করিয়ে রাখা হয়েছিল যেন। পুরো দেশ এবং স্থানীয় নাগরিকদের জীবন ধ্বংস, মৃত্যু এবং অপরিমেয় দুর্ভোগে নিপতিত ছিল।