‘এ্যাদোন করি চললে না খায়া মারা খাইবে’

‘বাপজান আর কয়দিন সউগ (সব) কিছু বন্দ (বন্ধ) থাকবে। এ্যাদোন করি চললে না খায়া (খেয়ে) মারা খাইবে।’ এভাবেই বলছিলেন রিকশাচালক চালক চাঁন মিয়া (৫৫)।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারাদেশেই রাস্তাঘাটে অচলাবস্থা। অতিপ্রয়োজন ছাড়া কেউ রাস্তায় বেরুচ্ছেন না। এমতাবস্থায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দিনমজুরসহ রাস্তায় ছোট যানচালকরা। 

আদিতমারী উপজেলা সদরের বুড়ির বাজারে রবিবার সকাল ১১টার দিকে  তার সঙ্গে দেখা হয় এ প্রতিনিধির।

এ সময়চাঁন মিয়া বলেন, ‘একদিন রিকশার প্যাডেল না ঘোরালে পেট চালাতে কষ্ট হয়। আর এই অবস্থায় রিকশা নিয়ে বের হলেও মানুষের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না।’

কেমন করে সামনের বন্ধের দিনগুলো চলবে সেই শঙ্কায় দিন কাটছে তার।

রবিবার দুপুর পর্যন্ত সরেজমিন লালমনিরহাট জেলা কয়েকটি এলাকা ঘুরে কয়েকজন দিনমজুরদের সঙ্গে কথা বললে সবার চোখেমুখেই দুশ্চিন্তার চিত্র দেখা যায়।

বুড়িরবাজারে ভ্যানচালক আব্দুস ছালাম (৪২) বলেন, ‘৪জনের সংসারে একদিন ভ্যান না চালালে চুলায় হাড়ি উঠে না। আর গত ৪দিন থাকি ভ্যান চালাতে না পেরে কি যে কষ্ট তা বুঝাতে পারব না।’

ধার-দেনা করে সংসার চালাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাপ্টিবাড়ি বাজারে আরেক দিনমজুর আলী আব্বাসের (৫৫) সঙ্গে দেখা হলে তিনি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, ‘জীবন যে আর চলে না বাহে! কামকাজ সবই বন্ধ। কিন্তু পেট তো আর বন্ধ থাকে না। পেট চালাতে গেলে কাজ লাগে। এই অবস্থায় কেউ তো কাজেও ডাকে না।’

জেলা শহরের মিশন মোড়ে কথা হয় জিয়া কলোনীর অটো চালক হায়দার আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ৬ সদস্যের পরিবার চালাতে প্রতিদিনই দরকার

৪০০ টাকা। মানুষশূন্য শহরে অটোগাড়িতে উঠবে কে? কেমনে যে দিন চলবে- বলেই দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন তিনি।

এমন অবস্থায় এই ক’দিনেই লালমনিরহাটের খেটে খাওয়া মানুষগুলোর নাভিশ্বাস উঠেছে চরমে। দিনমজুর মানুষগুলোর দাবি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কেজিতে ১০ টাকা দরে ওএমএসের মাধ্যমে চাল বিক্রির।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত জেলায় ১৫ মেট্রিক চাল ও ৫ লাখ টাকা অসহায় মানুষদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আর্ও ৮৫ মেট্রিক টন চালের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেগুলোও বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, ৩’শ প্যাকেট খাবার ইতিমধ্যেই বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৩ মেট্রিক চাল আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। যা বিতরণের জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।  দ্রুতই তা বিতরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, গোটা জেলায় ইতিমধ্যেই ১৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৮৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা বিতরণের জন্য প্রতিটি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা কাজ করে যাচ্ছে।