বাংলার নিজস্ব যাপন চৈত্রসংক্রান্তি

বাংলায় সময়ের পালাবদলের সন্ধিক্ষণটি খুবই জরুরি। মাসের শেষ দিনটি সংক্রান্তি এবং প্রথম দিনটি ‘মাস পহেলা’ হিসেবেই পালিত হয় গ্রামীণ জনপদে। মাস বা বছরের প্রথম দিন নয়, গ্রামীণ নিম্নবর্গ গুরুত্ব দেয় মাসের শেষ দিন, ঋতুর সন্ধিক্ষণকে। এটি বদলে যাওয়ার ক্রান্তিকাল- আজ তেমনই দিন।

আজ চৈত্রসংক্রান্তি। ১৪২৬ বঙ্গাব্দের শেষ দিন। রাত পোহালেই পহেলা বৈশাখ, নতুন বছর ১৪২৭ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন।

চৈত্রসংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর নানা অনুষ্ঠান, মেলার আয়োজন করা হয়। বসে লোকোৎসব। নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এবার চৈত্রসংক্রান্তিতে কানো আয়োজন হচ্ছে না। তবে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে চৈত্রসংক্রান্তি ঘিরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার উদ্যোগ নিয়েছেন সংস্কৃতিকর্মীরা।

এই সংক্রান্তি বাঙালি ও আদিবাসী দেশের গ্রামীণ নিম্নবর্গের জীবনে এক গুরুত্ববহ আখ্যান। চারপাশের প্রকৃতির নির্দেশনাতেই এ আখ্যান গড়ে উঠেছে।

চৈত্র থেকে বর্ষার প্রারম্ভ পর্যন্ত সূর্যের তেজ প্রশমন ও বৃষ্টি লাভের আশায় কৃষিজীবী সমাজ সুদূর অতীতে চৈত্রসংক্রান্তির উদ্ভাবন করেছিল। চৈত্রসংক্রান্তি একসময় গ্রামীণ জনপদের প্রধান উৎসব হয়ে ওঠে। তবে কালের প্রবাহে তা নাগরিক জীবনেও স্থান করে নেয়। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে চলে নানা মেলা, উৎসব।

হালখাতার জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাজানো, লাঠি খেলা, গান, আবৃত্তি, সংযাত্রা, রায়বেশে নৃত্য, শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠান হয় চৈত্রসংক্রান্তিতে। প্রতি বছর এদিনে পুরান ঢাকার বিভিনড়ব জায়গায় আয়োজন করা হয় ‘চৈত্রসংক্রান্তি’র শোভাযাত্রা।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হয় শুভহালখাতার। বছরের শেষ এ দিনটি বিশেষভাবে উদযাপন করেন শাঁখারীবাজারের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পুরান ঢাকার এ অঞ্চলটিতে একদল শিব-পার্বতী সেজে খোল-করতাল, মন্দিরার তালে তালে কীর্তন করে ছুটে চলে এক মহল্লা থেকে আরেক মহল্লায়।