হাতীবান্ধায় ১২০ বস্তা চাল উদ্ধার: ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন

লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলা সিন্দুর্না থেকে সোমবার ভোরে সরকারি ১২০ বস্তা চাল উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত চাল সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার স্থানীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই দাবি করেন ব্যবসায়ীরা।

এর আগে সোমবার ভোর ৩টার দিকে ওই চাল উদ্ধার করে হাতীবান্ধা থানা পুলিশ। এ সময় দুখু মিয়া নামের একজন ট্রলি চালককে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি করে আটক ট্রলি চালক দুখু মিয়াকে আদালতে প্রেরণ করে।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী শাহাজাহান দাবি করে বলেন, ট্রলি ও চালকের সঙ্গে তার কোনই সম্পর্ক নেই। উল্লাস নামের এক ব্যক্তি ট্রলি ভাড়া করেছিলেন। কেন তিনি ট্রলি ভাড়া করেছিলেন সেটি তিনিই ভালো বলতে পারবেন। এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরল আমিন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন তাজুসহ চাল ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ব্যবসায়ীদের ওই সংবাদ সম্মেলনের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্নজনেরা স্ট্যাটাস দিয়ে নানা রকমের মন্তব্য করেছেন।

মিজানুর রহমান দুলাল নামের একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, পাটগ্রামে রাইসমিল থেকে এলো সরকারি বস্তাবন্দি চাল! কালীগঞ্জ থেকে এলো ট্রলি! হায় চালক দুখু মিয়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাতীবান্ধা উপজেলার একাধিক মানুষের সাথে কথা হলে তারা বলেন, একটি মহলকে বাঁচাতেই প্রশাসন একটি সাধারণ ডায়েরি করেই নিজের গা বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। কেননা চাল উদ্ধারের পর থেকেই জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে বলে জানালেও পরবর্তীতে জিডি ছাড়া আর কিছুই করেনি। এমনকি যিনি ট্রলি ভাড়া করে এনেছিলেন সেই উল্লাসকেও আইনের আওতায় আনা হয়নি। দায়ীদের বাঁচাতে শুধুমাত্র নিরীহ ট্রলি চালককে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দায় সেরেছেন কর্তারা।

হাতীবান্ধা থানার ওসি তদন্ত সোমবার বলেছিলেন, আটক চালগুলো ১০টাকা কেজি দরের ছিল। যার পরিমাণ ছিল ১২০ বস্তা। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হবে বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে জিডি ছাড়া আর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো.  আবু জাফরও বলেছিলেন মামলা হবে। কিন্তু সেটি আর হয়নি।

হাতীবান্ধা থানার ওসি (তদন্ত) নজির হোসেন বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আর দুখু মিয়া ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর বাইরে আর কিছু জানাননি তিনি।

প্রসঙ্গত, সোমবার ভোরে হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্ণা ইউনিয়নের লোকমান হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি গোডাউন থেকে এসব চাল উদ্ধার করা হয়। রবিবার রাতে চাল ব্যবসায়ী শাহাজাহান আলীর ভাড়া করা গোডাউনের সামনে একটি ট্রলি এসে দাঁড়ালে স্থানীয় মানুষের মনে সন্দেহ দেখা দেয়। এ সময় তারা গোডাউনটি ঘিরে রেখে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে খবর দেন। খবর পেয়ে ইউএনও হাতীবান্ধা থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে গোডাউনের তালা ভেঙে ১২০ বস্তা চাল উদ্ধার করে।