সাকিবের হ্যাচারি শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ শুরু

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের নির্দেশ পাওয়ার পর তার প্রতিষ্ঠান সাকিব অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেডের কাঁকড়া প্রকল্পের শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ শুরু করেছেন দায়িত্বরতরা। গত বুধবার বিকেলে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাতিনাখালীতে সাকিব অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেডে শ্রমিকদের ডেকে তাদের বেতন পরিশোধ শুরু করেন জেনারেল ম্যানেজার মো. সালাহউদ্দিন। এদিন ১৫০ জন শ্রমিকের ১৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বেতন পরিশোধ করে দেওয়া হয়।

এর আগে গত সোমবার চার মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে সাকিব অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেডের ২০০-এর বেশি শ্রমিক বিক্ষোভ করেন। এ খবর পেয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সাকিব নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ পাঠিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দেন।

বুধবার শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সময় উপস্থিত ছিলেন কাঁকড়া খামার প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সগীর হোসেন পাভেল, জেনারেল ম্যানেজার মো. সালাহউদ্দিন, সাতক্ষীরা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নাসেরুল হক, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য সচিব মোশফিকুর রহমান মিল্টন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্সসহ ফার্মের অন্য কর্মকর্তারা।

জেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য সচিব মোশফিকুর রহমান মিল্টন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজকে (গত বুধবার) মোটামুটি প্রায় সব শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার বাকিদের বকেয়া পরিশোধ করা হবে।’

এদিকে শ্রমিক-কর্মচারীরা যখন বকেয়া মজুরি পাচ্ছেন, তখন সাকিবের প্রকল্পটির জমির কয়েকজন মালিক চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলে তাদেরও জমির ইজারা বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা পাওনা রয়েছে জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সাকিবের প্রকল্পের অন্যতম মূল মালিক গাজী শহীদুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সাকিব আল হাসানের কাঁকড়া খামার প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক ক্রিকেটার সগীর হোসেন পাভেল ২০১৬ সালে চুক্তি করে কাঁকড়া প্রকল্পটি চালু করেই শর্ত ভঙ্গ করে সেখানে তিনতলা ভবন বানায়। তারা আমাদের ৪৮ বিঘা জমির চুক্তি অনুযায়ী অর্থ দেয় না।’

প্রকল্পের জমির আরেক মালিক আবদুল হাকিম বলেন, ‘চুক্তির পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের অনেক ক্ষমতা এবং টাকা চাইলে বিপদ হবে বলে হুমকি দিয়ে থাকে। এমনকি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির ঘটনাও সেখানে ঘটেছে।’

সগীর হোসেন পাভেলের কাছে প্রকল্পের জমির মূল মালিকদের পাওনা টাকা না দেওয়া ও তাদের হুমকি দেওয়ার বিষয়টি তুললে তিনি তার উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতির কারণে সাময়িক সংকটে পড়ে ফার্মের কাঁকড়া প্রকল্প। এ পরিস্থিতিতে ফার্মের প্রস্তুতকৃত যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরের তিনটি শিপমেন্ট স্থগিত হয়ে যায়। এ ছাড়া নানা সংকটের মুখোমুখি হয়ে পড়ায় সাময়িক সমস্যার মুখোমুখি হয় প্রতিষ্ঠান; যা রপ্তানিমুখী সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঘটেছে। এর আগে শুরু থেকে এ প্রতিষ্ঠান শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে যৌথ কর্ম প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এগিয়ে চলে। কখনো কোনো দিন বেতন-ভাতাসংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি আমাদের।’

পাভেল আরও বলেন, ‘২০ এপ্রিল দুই শতাধিক শ্রমিকের বিক্ষোভের খবরটি আমাদের ব্যথিত করেছে। আমরা সাকিবের নির্দেশে পাওনা মেটাতে শুরু করেছি। করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পরিশোধের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।’

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বহু প্রকল্প রয়েছে উল্লেখ করে কাঁকড়া ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সগীর হোসেন পাভেল বলেন, ‘যার বেশির ভাগটার পরিচালনায় তিনি (সাকিব) থাকেন না। সাকিব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে কাঁকড়া প্রকল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা নিয়ে বিক্ষোভের খবর পেয়েই সঙ্গে সঙ্গে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ পাঠিয়ে দিয়ে বেতন-ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দেন। তাদের পাশে থাকতে বলেছেন।’

পাওনা মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন সগীর হোসেন পাভেল এবং কাঁকড়া প্রকল্পের পরিচালক গাজী ইমদাদুল হক সংশ্লিষ্ট সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন।