প্লেগ মোকাবিলায় হাসপাতাল গড়েন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সারা বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজার ছুঁইছুঁই. আক্রান্ত প্রায় ৩৯ লাখ। বেশির ভাগে দেশেই চলছে লকডাউন। এমন মহামারী দেখেছেন স্বয়ং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও, হারান আপনজন।

ওই দুর্যোগে কবিগুরু এগিয়ে এসেছিলেন আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসায়। নির্মাণ করেন হাসপাতাল। তার জন্মদিনে জানুন সেই কথা।

তখন ১৯১১ সাল। বেড়েই চলেছে সাংঘাতিক সব মহামারীর প্রকোপ। যার অন্যতম প্লেগ, কলেরা ও কালাজ্বর। টিকাও আবিষ্কার হয়নি। প্লেগ কলকাতায় এমন ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে জগদীশচন্দ্র বসুকে পর্যন্ত বাড়িছাড়া হতে হয়েছিল।

তিনি রবীন্দ্রনাথকে এক চিঠিতে লেখেন, “উপরের ঠিকানা হইতে বুঝিতে পারিয়াছেন, যে, আমি পলাতক— প্লেগের অনুগ্রহে। আমার একজন ভৃত্য ছুটি লইয়া একদিন বড়বাজার গিয়াছিল। সেখান হইতে আসিয়া একদিন পরেই প্লেগ হয়। আর ৩০ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু। বাড়ি ছাড়িয়া উক্ত ঠিকানায় আছি— কতদিন পলায়ন চলিবে জানি না।”

রবীন্দ্রনাথের লেখায়ও আছে প্লেগের সেই ভয়াল সময়ের বর্ণনা। "যে বছর কলিকাতা শহরে প্রথম প্লেগ দেখা দিল তখন প্লেগের চেয়ে তার রাজ-তকমা-পরা চাপরাসির ভয়ে লোক ব্যস্ত হইয়াছিল।...পাড়ায় প্লেগ দেখা দিল। পাছে হাসপাতালে ধরিয়া লইয়া যায় এজন্য লোকে ডাক্তার ডাকিতে চাহিল না। জগমোহন স্বয়ং প্লেগ-হাসপাতাল দেখিয়া আসিয়া বলিলেন, ব্যামো হইয়াছে বলিয়া তো মানুষ অপরাধ করে নাই।" (চতুরঙ্গ)

অল্প সময়ে প্লেগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আক্রান্ত হওয়ার ঘণ্টা কয়েকের মধ্যেই মৃত্যু হচ্ছে রোগীর। ফলে দ্রুত চিকিৎসারও সুযোগ নেই।

এতই ভয়াল ছিল সেই প্লেগ— ১৯১১ সালে বাংলায় জনসংখ্যা সেভাবে বাড়েনি।

প্লেগ পৌঁছেছিল জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতেও। আক্রান্ত হয় অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১০ বছরের মেয়ে। শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি তাকে। মুহূর্তে গোটা ঠাকুর পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। পাশাপাশি দুজন মেথর আক্রান্ত হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত হয়ে পড়েন কবি। এত লোকের আক্রান্ত হচ্ছে, কিন্তু তার কোনো সঠিক চিকিৎসা হবে না, তা কীভাবে হয়!

এরপর রবীন্দ্রনাথ শুরু করেন প্লেগের হাসপাতাল তৈরির কাজ। সঙ্গে ছিলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ভগিনী নিবেদিতা। এমনকী পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে চলত পর্যবেক্ষণ। চিকিৎসক ও নার্সরাও সঙ্গে যেতেন।

এ বিষয়ে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেখেন, "সেই সময়ে কলকাতায় লাগল প্লেগ। চারদিকে মহামারী চলছে, ঘরে ঘরে লোক মরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। রবিকাকা এবং আমরা এবাড়ির সবাই মিলে চাঁদা তুলে প্লেগ হাসপাতাল খুলেছি, চুন বিলি করছি। রবিকাকা ও সিস্টার নিবেদিতা পাড়ায় পাড়ায় ইনস্পেকশনে যেতেন। নার্স ডাক্তার সব রাখা হয়েছিল।" (জোড়াসাঁকোর ধারে)

বিদেশি সংবাদমাধ্যম অবলম্বনে