করেনাভাইরসা সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়ে সোমবারও পাটুরিয়ার ফেরি ঘাটে হাজারো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। গেল মাসের শেষ দিকে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের পোশাক কারখানা খোলার ঘোষণার পর থেকে ভিড় লেগেই আছে পাটুরিয়া ঘাটে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার হাজারো শ্রমিক দৌলতদিয়া প্রান্তে এসে ফেরিতে চড়ে পাটুরিয়া প্রান্তে আসছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় পিকাপ, ভ্যান, রিকশা, মোটরবাইকে চেপে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে স্থলে যাচ্ছে।
রোববার থেকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং গার্মেন্টস ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর থেকে সোমবারও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ঢাকামুখী শ্রমজীবী মানুষের ঢল অব্যাহত থাকে।
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৭ ফেরির মধ্যে সোমবার ১০ ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। জরুরী পণ্যবাহী ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের কথা থাকলেও প্রতিটি ফেরিতে গাদাগাদি করে নদী পার হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।
যাত্রীরা সুরক্ষা সাগ্রী ছাড়াই মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস, রিকশাভ্যান ও পায়ে হেঁটে ঢাকামুখী হচ্ছেন। সরকারি নির্দেশে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে এসব যানবাহনে উঠে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে তাদের।
বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম মো. জিল্লুর রহমান বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে মোট ১৭ ফেরি আছে। এদের মধ্যে গত কয়েক দিন ধরে চারটি ফেরি দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ জরুরী যানবাহন পারাপার করা হচ্ছিল। কিন্তু সোমবার পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ১০ ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।
এ কর্মকর্তা বলেন, ওই পাড় থেকে যাত্রীরা উঠে আসাতে আমরা তেমন কিছুই করতে পারছি না। ফলে ফেরিতে মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাদাগাদি করে নদী পার হচ্ছেন। এতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি রয়ে যাচ্ছে।
মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা বলেন, আমারা ঢাকা- আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে একাধিক চেকপোস্ট বসিয়েছি। আমরা জরুরী যানবাহন ছাড়া বাকি যানবাহন উল্টো পথে ফিরিয়ে দিচ্ছি। তবে চেকপোস্ট ফাঁকি দিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকরা মানিকগঞ্জ দিয়ে ঢাকায় ফিরছে।