বাগেরহাটে ভার্চুয়াল শুনানি বর্জনের সিদ্ধান্ত আইনজীবী সমিতির

নতুন তথ্য প্রযুক্তিতে বাগেরহাটে নিম্ন আদালতে চালু হওয়া ভার্চুয়াল শুনানি বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইনজীবী সমিতি।

সেই সাথে তারা করোনাকালীন সময়ে নিম্ন আদালতে সপ্তাহে দুই দিন করে নারী ও শিশু, দুই দিন ফৌজদারি এবং দুই দিন সিভিল আদালত সশরীরে হাজির হয়ে কোর্ট পরিচালনার আদেশ জারির দাবি জানিয়েছে সমিতি।

সমিতির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কোনো সদস্য যদি আদালতের ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশ নেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বাগেরহাট জেলা জজ আদালত বুধবার পর্যন্ত তাদের এই নিম্ন আদালতে ভার্চুয়াল শুনানির বিচার কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। ফলে এই জেলার জামিনযোগ্য আসামিরা জামিনের জন্য ভার্চুয়াল শুনানিতে আবেদন করতে পারছেন।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ কে আজাদ ফিরোজ টিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয় আইনজীবীদের এই সংগঠন।

বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ কে আজাদ ফিরোজ টিপু বলেন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরকারের চালু করা নতুন এই পদ্ধতি সম্পর্কে আইনজীবীরা সচেতন নন। আদালতের ভার্চুয়াল শুনানিতে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও ইন্টানেট সংযোগ থাকা ও তার ব্যবহার জানা জরুরি। আমাদের সমিতির অধিকাংশ সদস্যের তা নেই।

আদালতের এই শুনানিতে অংশ নিতে হলে সদস্যকে প্রথমে নিবন্ধন করতে হবে। সরকারের চালু করা আধুনিক এই পদ্ধতিতে ভার্চুয়াল কোর্টে অংশ নেয়া আমাদের জন্য দুরূহ। তাই সমিতির সদস্যদের নিয়ে আমরা সাধারণ সভা করে ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আমরা সেই সাথে তারা করোনাকালীন সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যাতে সপ্তাহে দুই দিন করে নারী ও শিশু, দুই দিন ফৌজদারি এবং দুই দিন সিভিল আদালত সশরীরে হাজির হয়ে কোর্ট পরিচালনা করা যায় সেই আদেশ জারি করার জন্য জেলা জজের কাছে দাবি জানিয়েছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা জজ আদালতের একাধিক কর্মকর্তা দুপুরে এই প্রতিবেদককে বলেন, নতুন তথ্য প্রযুক্তিতে ভার্চুয়াল বিচার ব্যবস্থায় শুধুমাত্র ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত যারা কারাগারে বন্দী আছেন তাদের জামিন শুনানি করা যাবে। আর এই জামিনের আবেদন সংশ্লিষ্ট আসামির আইনজীবীর মাধ্যমে হতে হবে। আমাদের জেলা জজ আদালতের অধীনে থাকা আইনজীবীরা সরকারের চালু করা আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সাথে একেবারেই পরিচিত নন।

অনেক আইনজীবীর তথ্যপ্রযুক্তির সরঞ্জাম নেই এবং অনেকে ব্যবহারও ঠিকমত জানেন না। তাই তারা এই ভার্চুয়াল শুনানি পদ্ধতিতে অংশ না নিতে সাধারণ সভা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আমাদের প্রস্তুতি থাকলেও ভার্চুয়াল শুনানি করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ মো. গাজী রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।