সাভার-আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন ও কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ

শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন ও বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে চারটি তৈরি পোশাক কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক।

বুধবার দুপুরে আশুলিয়ায় নরসিংহপুর এলাকার সোনিয়া মার্কেট সংলগ্ন আদিয়াত অ্যাপারেলস লিমিটেড, জিরানী বাজার এলাকার বডি স্টিচ, চারাবাগ এলাকার এ্যালাইন অ্যাপারেলস লিমিটেড ও সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার অকিত স্টাইল কারখানার শ্রমিকরা এই বিক্ষোভ করেন।

আদিয়াত অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা জানায়, করোনাভাইরাসের কারণ দেখিয়ে গত ৩১ মার্চ নোটিশ টানিয়ে ৩১ মে পর্যন্ত কারখানায় লে-অফ ঘোষণা করা হয়। গত মার্চ মাসের ২৪ ও ২৫ তারিখে ওই মাসের বেতনের অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়। বেতনের বাকি টাকা পরিশোধ ও কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে সকল শ্রমিক একযোগে আন্দোলনে নেমেছে।

এর আগেও একই দাবিতে কারখানাটিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেছিলেন শ্রমিকরা। মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় তাদের নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনকারী শ্রমিকরা।

এব্যাপারে আদিয়াত অ্যাপারেলস লিমিটেডের এমডি তামিম আহমেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আশুলিয়ার জিরানী বাজার এলাকার বডি স্টিচ কারখানার শ্রমিকরা দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। এছাড়া হেমায়েতপুরের অকিত স্টাইল পোশাক কারখানায় ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের বেতন না দিয়ে কারখানায় তালা দিয়ে মালিক পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা।

অন্যদিকে চারাবাগ এলাকার এ্যালাইন অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতন, হাজিরা বোনাসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবিতে সকাল থেকেই কারখানার ভিতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। দুপুরের দিকে শ্রমিকরা সিঅ্যান্ডবি আশুলিয়া সড়ক অবরোধ করেন। এসময় বেশ কিছুক্ষণ সড়টিতে যান চলাচল বন্ধ থাকলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা এসে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেন।

কারখানাটির শ্রমিক সুজন মিয়া বলেন, আমাদের এপ্রিল মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। হাজিরা বোনাস, ঈদ বোনাসসহ মে মাসের বেতন পরিশোধের দাবিতে সকল শ্রমিক একযোগে আন্দোলন করছে।

বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সরোয়ার হোসেন বলেন, টানা দুই মাস লে-অফ ঘোষণা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। ঈদের আগে এধরনের সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়। অবিলম্বে কারখানা খুলে দিয়ে শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ ও লে-অফ বাতিল করে সকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানান তিনি।