ড. আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া

জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শোক প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছেন নিজেদের অনুভূতি।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে ৮৩ বছর বয়সে মারা যান ড. আনিসুজ্জামান।

অভিনেত্রী সারা যাকের লেখেন, "অনেক কথা ঘুরে ফিরে আসছে মনে , অনেক স্মৃতি ... তবে একটাই অনুভুতি , মাথার ওপর ছায়াটি নেই। বিদায় স্যার। বিদায়।"

চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লিখেছেন, “বিদায় জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। বিদায়েরই যেন বছর এটা”

অভিনেত্রী-নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন বলেন, “‌জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্যার আর নেই। মাথার ওপর থেকে আরেকজন অভিভাবক চলে গেলেন।”

“চলে গেলেন শিক্ষাবিদ জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান স্যার। পথ দেখানো আলোর দিশারী, মুক্তচিন্তার অনন্য ব্যক্তিত্ব, স্যার, আপনাকে গভীর শ্রদ্ধা, এভাবেই আলো নিভে আসে”, বলেন চঞ্চল চৌধুরী।

চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, “জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান স্যার আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আল্লাহ তায়ালার দরবারে উনার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আমিন।”

‌“চলে গেলেন বরেণ্য শিক্ষাবিদ জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্যার। বিনম্র শ্রদ্ধা। এমন মেধাবী এবং আলোকিত সন্তান জাতি আর পাবে কি”, লেখেন অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি।

মিডিয়া ব্যক্তিত্ব অঞ্জন রায় লেখেন, “জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান স্যার আর নেই। এই শহরের আমাদের ছায়া হয়ে থাকা দীর্ঘকায় বৃক্ষ বিদায় নিলো আজ বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে। অন্যলোকে ভালো থাকবেন আচার্য।”

আনিসুজ্জামান বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, অলক্ত পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কারসহ নানা পুরস্কার ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রিতে ভূষিত হয়েছেন। ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’ পেয়েছেন।

সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তাকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। ২০১৮ সালের ১৯ জুন বাংলাদেশ সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়।