চন্দনাইশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির ঘর

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দুই পৌরসভা ও আট ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার এককালের চির ঐতিহ্যের নিদর্শন ছায়া-ঘেরা শান্তির নীড় মাটির ঘর। যা এক সময় গ্রামের মানুষের কাছে ‘গরিবের এসি বাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল। মাটির ঘর আগের মতো এখন আর তেমন একটা চোখে পড়ে না।

বেশি দিন আগের কথা নয়, চন্দনাইশে প্রতিটি গ্রামে নজরে পড়তো সুদৃশ্য অসংখ্য মাটির ঘর। কিন্তু কালের আবর্তে আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রায় বিলুপ্ত হতে বসেছে মাটির তৈরি ঘরগুলো। ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাঁচার পাশাপাশি প্রচুর গরম ও শীতে বসবাস উপযোগী মাটির তৈরি এসব বাড়ি এখন আর  তেমন একটা নজরে পড়ে না। অত্যন্ত আরামদায়ক মাটির আবাস দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি বিত্তবানেরাও তৈরি করে এক সময় পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতেন। এখন মাটির ঘর ভেঙে নির্মাণ করা হচ্ছে ইটের তৈরি পাকা দালান। গ্রামের বিত্তবানরা এক সময় অনেক অর্থ ব্যয় করে মাটির মজবুত দ্বিতল বাড়ি ঘর তৈরি করতেন। যা এখনো কিছু গ্রামে চোখে পড়ে। গৃহিণীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাটির দেয়ালে বিভিন্ন রকমের আল্পনা এঁকে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতেন। অনেকে আবার চুনকামসহ বিভিন্ন রং ও করেন। খুব সহজেই তৈরি করা যেত এই ঘর। তার জন্য প্রয়োজন হতো এঁটেল বা এঁটেল দো-আঁশ মাটি। মাটির ঘর ব্যবহারকারী চন্দনাইশ পৌরসভার অছিউর রহমান (৬৫) দেশ রূপান্তরকে বলেন, পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে মাটির এই ঘরটি আমি পেয়েছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বর্ষা মৌসুমে পানি লেগে মাটি গলে ঘরের কিছুটা ক্ষতি হলেও অন্যান্য সময় তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষায় মাটির ঘরের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রয়োজন রয়েছে।