প্রবীণ রাজনীতিক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র সাবেক স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নাসিমকে গতকাল রবিবার রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মা আমেনা মনসুরের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাকে। করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তার জানাজা ও দাফন হয়।
রীতি অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য মারা গেলে সংসদ প্লাজায় তার জানাজা হয়। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে মোহাম্মদ নাসিমের জানাজা সেখানে হয়নি।
বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় চার নেতার একজন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম গত শনিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গতকাল প্রথমে সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে ধানম-িতে সোবহানবাগ জামে মসজিদে নাসিমের নির্বাচনী এলাকা সিরাজগঞ্জ থেকে আসা পাঁচ শতাধিক লোক এবং তার ধানম-ির প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে জানাজা হয়। বনানী জামে মসজিদে ১০টা ২৫ মিনিটে দ্বিতীয় জানাজা শেষে ১০টা ৫৫ মিনিটে বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশেই বর্ষীয়ান এ আওয়ামী লীগ নেতাকে সমাহিত করা হয়। পরিবারের সদস্যরা মোহাম্মদ নাসিমকে তার মায়ের কবরে দাফনের সিদ্ধান্ত নিলেও পরে তা পরিবর্তন করা হয়। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছার বলেন, ‘মায়ের কবরে নয়, নতুন কবরে ওনাকে সমাহিত করা হয়েছে।’
বনানীতে জানাজা শেষে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নাসিমকে। জাতীয় ও দলীয় পতাকায় মোড়া কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে। আওয়ামী লীগ, ১৪ দল, জাসদ ছাড়াও আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন যুবলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের তরফ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় নাসিমের কফিনে।
বনানীতে জানাজায় উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ নাসিমের দুই ছেলে তানভীর শাকিল জয় ও তন্ময় মনসুর। আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে ছিলেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, আবদুল মতিন খসরু, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনসহ ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্র পার্টিসহ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধি ও নেতারা।
মোহাম্মদ নাসিম গত ১ জুন শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তার শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের চেষ্টায় তিনি করোনা থেকে মুক্তি পেলেও ৫ জুন স্ট্রোক করেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। তার চিকিৎসায় গঠন করা হয় মেডিকেল বোর্ড। তবে একপর্যায়ে তিনি চলে যান গভীর কোমায়। সংকটাপন্ন নাসিমকে তার পরিবার বিদেশে নিতে চাইলেও তার সেই অবস্থাও ছিল না বলে চিকিৎসকরা জানান। গভীর কোমা থেকে শতচেষ্টা করে তাকে আর ফেরাতে পারেননি চিকিৎসকরা। গত শনিবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসিম। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।
সিরাজগঞ্জে ৭ দিনের শোক কর্মসূচি শুরু : আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের স্মরণে সিরাজগঞ্জে সাত দিনের শোক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল থেকে জেলা, উপজেলা ও থানা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। দলের নেতাকর্মীরা কালোব্যাচ ধারণ করেন। মরহুমের আত্মার শান্তি কামনায় দলীয় অফিসগুলোতে কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। এছাড়া এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে তার স্মরণে গায়েবানা জানাজা হয়। এতে আওয়ামী লীগ, বিএনপির নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেন। এদিন এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত স্মরণসভা, কোরআনখানি ও দোয়ার আয়োজন করে। এছাড়া কাজিপুর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, উল্লাপাড়া, চৌহালী ও শাহজাদপুরে মোহাম্মদ নাসিমের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ।