রাস্তা আটকে বাড়ি নির্মাণ অবরুদ্ধ ১০ পরিবার

রাস্তা আটকে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু করায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে মিরসরাই পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ১০টি পরিবার। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না কোনো বিধিমালা। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে এসব জানিয়েও তারা সুরাহা পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগী মরিয়ম আক্তার জানান, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মিরসরাই এলাকার তাদের প্রতিবেশী হাজি শাহ আলম কিছুদিন আগে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু করেন। এ সময় দীর্ঘ ২৫ বছরের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। এতে ১০টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিবাদ কর্ণপাত না করে শাহ আলম নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মরিয়ম আরও জানান, প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ায় দৈনন্দিন কাজকর্মের জন্য বের হওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল আনা-নেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। যদিও ইমারত নির্মাণ বিধিমালার ৮ এর ১ ধারায় বলা হয়েছে, ইমারতের সাইট সংলগ্ন অথবা সাইটের সহিত সংযোগকারী অন্যূন ৩ দশমিক ৬৫ মিটার প্রশস্ত রাস্তা থাকতে হইবে; তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন রাস্তার ক্ষেত্রে অন্যূন ৩ মিটার প্রশস্ত রাস্তা হইতে হইবে।’ অথচ ৬ তলা ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ওই পথে প্রতিবেশীদের চলাচলের বিষয়টি আমলে রাখেননি পৌর কর্র্তৃপক্ষ। তোয়াক্কা করেননি ইমারত নির্মাণ বিধিমালাও। এ বিষয়ে শাহ আলম বলেন, ‘আমার জায়গায় আমি ঘর করছি। এখানে কারও হাঁটা চলার রাস্তা নেই।’ পরে তিনি বলেন, ‘পৌর কর্র্তৃপক্ষ তিন ফিট জায়গা রেখে কাজ করতে বলেছিল। এখন নির্মাণকাজ চলছে তাই রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

স্থানীয় কাউন্সিলর শাখের ইসলাম রাজু বলেন, ‘বিষয়টি সমাধানের জন্য ভুক্তভোগীদের অনুরোধে শাহ আলমের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। কিন্তু তিনি অনড়। তাই মীমাংসা হয়নি।’

পৌর মেয়র গিয়াসউদ্দিন মুঠোফোনে জানান, ভবন নির্মাণের জন্য শাহ আলম অনুমতি চাইলে প্রতিবেশী পরিবারগুলোকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তারা আসেননি। তিনি বলেন, ‘পৌর বিধান অনুযায়ী ৩ ফিট জায়গা ছেড়ে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৩ ফিট জায়গাও নেই প্রশ্ন করলে ঢাকায় আছেন পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।’

চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করা ঠিক হয়নি মন্তব্য করে মিরসরাই থানার এসআই আমিরুল মুজাহিদ বলেন, নির্মাণকাজ স্থগিত করেছি। মীমাংসার জন্য উভয়পক্ষকে নোটিস করা হবে।