নারায়ণগঞ্জে জুলাইয়ে ১৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ করোনা হাসপাতালের ঘোষণা সেলিম ওসমানের

আগামী জুলাই মাসের মধ্যে খানপুর হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে সম্পূর্ন ১৫০ শয্যার করোনা হাসপাতালে রূপান্তরিত করার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান।

যেখানে আইসিইউসহ পিসিআর ল্যাবের আরো একটি মেশিন সংস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সেই সাথে হাসপাতালে বিদ্যমান অনিয়ম তদন্তে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতালে অনিয়মনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন। প্রয়োজনে দুদকের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

রোববার বিকেল ৪টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল এর জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা জানান সভার সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

সভা শেষে এমপি সেলিম ওসমান সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা  গত কয়েকদিন ধরে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেছি। আমরা খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে করোনা হাসপাতালে রূপান্তর করতে যাচ্ছি। এখানে নারায়ণগঞ্জের মানুষের মাঝে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সত্যি কথা বলতে গেলে আমাদের ৩০০ শয্যা হাসপাতাল এখন ৩০০ শয্যায় নাই। এখানে ৫০০ শয্যা করার জন্য হাসপাতালের কেবিন ও দুটি ওয়ার্ডকে ভেঙ্গে উন্নয়ন কাজের জন্য ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের এখানে মেডিকেল করার জন্য আশ্বস্ত করেছেন। প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিম স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সময় আমাদের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের দূভার্গ্য নানা জটিলতায় আমরা এর কার্যক্রম পুরোপুরি ভাবে শুরু করতে পারি নাই। নয়তো এতোদিনে বাংলাদেশে এটি একটি উন্নত হাসপাতালে রূপান্তরিত হয়ে যেত।

এ সময় তিনি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এর রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া প্রার্থনা করেন।

তিনি আরো বলেন, অনেকের মনে প্রশ্ন ৩০০ শয্যা হাসপাতালে মাত্র ৫০জন রোগী কেন। এখানে বিষয়টি হচ্ছে সাধারণ হাসপাতালের সাথে করোনা হাসপাতালের অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে। এখন সাধারণ রোগী এখানে আসতে তাদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। অনেক কিছুর পর প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতায় আমরা পিআর ল্যাব স্থাপন করতে পেরেছি। সে সময় আমাদের জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন।

এর মধ্যে গত ৪ দিন ধরে আমার নারায়ণগঞ্জের মানুষ কীট সংকটের কারণে করোনা টেস্ট করতে পারছেন না। সাধারণ মানুষের মাঝে আতংঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে কীট কোথায় গেল। কীট বিদেশ থেকে আমদানী করে আনা হয়। আমদানী আদেশ থাকার পরও যথাসময়ে সরবরাহ না করায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি যে কোন মুহূর্তে সমাধান হবে। আমাদের এই হাসপাতালের নামে অনেক বদনাম রয়ে গেছে। সেটি নিয়েই আমরা আজকে সভায় দীর্ঘ আলোচনা করে দেখেছি দীর্ঘ দিন ধরে এই হাসপাতালের তত্ত্ববধায়কের পিএ তার কোন বদলী নেই। সে দীর্ঘ দিন রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে তার কোন বদলী নেই। সে-ই টেন্ডার পরিচালনা করে সেই টেন্ডার দেয়। বিভিন্ন এন্টারপ্রাইজের নাম দিয়ে খানপুর এলাকার একই ব্যক্তি এই টেন্ডার নিয়ে থাকে।  সময় ক্ষেপন করে একটি ইংরেজি পত্রিকায় টেন্ডারের বিজ্ঞাপণ দেওয়া হয়। যা সাধারণ মানুষ জানতে পারে না, টেন্ডারেও অংশ নিতে পারে না। হাসপাতালে অনেক সমস্যা ছিল। রোগীদের বেডে পাখা ছিল না। বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা ছিল না। 

তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে সরকারী ভাবে ৩০ লাখ টাকার একটা বরাদ্দ এসেছে। আমরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে আরো প্রায় ১ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছি। সব মিলে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটা তহবিল গঠন করবো। আমরা চেষ্টা করবো যাতে করে আমরা ১৫০ সিটে করোনা রোগীর চিকিৎসা পারি। আমরা হাসপাতালে আইসিইউ চালু করতে পারিনি। আমরা মেশিনগুলো পেলেও আইসিইউ বেড ও আনুসাঙ্গিক জিনিসগুলো পাইনি। সেগুলো আমাদের আনতে হবে। আমরা জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করে কিভাবে কি করা যায় তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আলোচনা করে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে ১৫০ শয্যার একটি করোনা হাসপাতালে রূপান্তরিত করতে। আমরা চেষ্টা করবো প্রয়োজনে আরো একটি পিসিআর মেশিন বসানো যাতে করে আরো বেশি পরিমানে রোগীর টেষ্ট করা সম্ভব হয়। আমি আমার ব্যবসায়ী ভাইদের সহযোগীতা চাই।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সহযোগীতা চাই। প্রয়োজনে আমরা তাকে জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটিতে অর্ন্তভূক্ত করবো।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেলিম রেজা, জেলা সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ আহম্মেদ, খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক গৌতম রায়, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, নারায়ণঞ্জ ক্লাবের সভাপতি তানভীর আহম্মেদ টিটু, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু প্রমুখ।