বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় করা মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা। এছাড়া ডুবে যাওয়া লঞ্চটিকেও এখন তীরে তোলা হয়নি।
এদিকে লঞ্চডুবির ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) গঠিত তদন্ত কমিটি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তৃতীয় দিনের মতো প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নিয়েছেন।
গত সোমবার সকালে মুন্সীগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে ‘মর্নিং বার্ড’ নামের লঞ্চটি ঢাকার সদরঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। সকাল সোয়া ৯টার দিকে সদরঘাটের অদূরে শ্যামবাজারের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে ‘ময়ূর-২’ নামে একটি লঞ্চের ধাক্কায় সেটি ডুবে যায়। এরপর ৩৪ জনের লাশ উদ্ধার করে উদ্ধারকারী দল। তাদের প্রায় সবার বাড়িই মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়। ওই দিন রাতেই নৌপুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়। এতে ‘ময়ূর-২’ লঞ্চের মালিক মোফাজ্জল হামিদ ছোয়াদ, লঞ্চটির মাস্টার আবুল বাশার, জাকির হোসেন, চালক শিপন হাওলাদার, মাস্টার শাকিল ও সুকানি নাসিরের নাম উল্লেখ করে সাতজনকে আসামি করে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মামলাটির তদন্তও করছে সদরঘাট নৌ থানা পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।
সদরঘাট নৌ থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক তৎপরতা চলছে। সম্ভাব্য সব জায়গায় আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ কোনো ধরনের অবহেলা করছে না।
লঞ্চডুবিতে মারা যাওয়া ইসলাম শরীফ শিপুলের স্বজন মশিউর রহমান শুভ বলেন, ডুবে যাওয়া লঞ্চের প্রায় সব যাত্রীই বিভিন্ন অফিসের কর্মী ও ব্যবসায়ী ছিলেন। এতবড় একটা ট্র্যাজেডির পর কর্র্তৃপক্ষ শুধু যেন লাশ হস্তান্তর করেই দায়িত্ব শেষ করেছে। এত মানুষকে দিনদুপুরে মারার জন্য দায়ীদের গ্রেপ্তারের কোনো উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না।
সুমন তালুকদারের ভাই সোহাগ তালুকদার জানান, তাদের স্বজনদের আর ফেরত পাবেন না। কিন্তু দায়ীদের বিচার হলে তারা শান্তি পাবেন।
বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক ও ঢাকা নদীবন্দরের প্রধান এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, লঞ্চডুবির ঘটনার কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ গঠিত পৃথক তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলছে। আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকেই বিআইডব্লিউটিএ গঠিত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। অভিযুক্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।