দূষণ-দখলে মরছে খাল হুমকিতে পরিবেশ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ও শিকলবাহা ইউনিয়নের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত শিকলবাহা খালে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। নিত্যদিন বিভিন্ন শিল্প-কারখানা ও পশুর খামারের বর্জ্য খালের পানিতে ফেলে পরিবেশ দূষিত করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের কোনো নিষেধই মানছে না বর্জ্য নিক্ষেপকারীরা। এ খালের কালচে পানির দুর্গন্ধে দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।

উপজেলার শিকলবাহা খালের দুই পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থাপনা। খালসংলগ্ন বিভিন্ন কল-কারখানার বর্জ্যে পানির রং কালচে হয়ে পড়েছে। খামারিদের পশুর মল ও আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অনেক সময় খালের আশপাশের বাসাবাড়ির ময়লাও নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। ফলে এ পথ দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া খালটির অনেক জায়গায় বর্জ্য ফেলার কারণে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে বোরো চাষাবাদে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা। বর্তমানে দুই পাশ স্থানীয়দের দখলের ফলে বিশালাকার খালটি নালায় পরিণত হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, কর্ণফুলী নদীর এই শাখা খাল থেকে গৃহস্থালি এবং বর্জ্যমিশ্রিত কালো পানি গিয়ে মিশে যাচ্ছে নদীর পানিতে। সঙ্গে রয়েছে পলিথিন, প্লাস্টিক এবং নানা অপচনশীল সামগ্রী। শিকলবাহা মাজার গেইট থেকে শুরু হয়ে আলী হোসেন মার্কেট পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকায় খালের দুই পাশে গড়ে উঠেছে ২৫-৩০টির অধিক পশুর খামার। খামারিদের পশুর বর্জ্যে ভরাট হয়ে গেছে খালের বিভিন্ন অংশ। এছাড়া বিভিন্ন শিল্প-কারখানার বর্জ্য তো আছেই। নেই কোনো জোয়ার-ভাটার পানি। কোনো কোনো অংশে খালের অস্তিত্ব টিকে আছে কয়েক ফিটের মধ্যে। অল্প বৃষ্টিতে দেখা দেয় তীব্র জলজট, সৃষ্টি হয় দুর্গন্ধের।

স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক বশিরুল আলম জানান, এ খালের পানি এক সময় মানুষ কৃষিকাজসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করত; অনেকেই মাছ ধরত খাল থেকে। এখন আর সে পানি আর মাছ পাওয়া যায় না। এমন অবস্থা হয়েছে পানি দেখলেও খারাপ লাগে। বিভিন্ন শিল্প-কারখানার বর্জ্য ও খামারিদের পশুর মল খালটি নষ্ট করে ফেলেছে।

কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী বলেন, এ খালটি উপজেলার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যারা অবৈধভাবে খাল দখল ও খালে বর্জ্য ফেলছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।