স্টিভেন ক্যামেরন একজন ব্রিটিশ। জন্মভূমি স্কটল্যান্ড থেকে ১০ হাজার মাইল দূরের দেশ ভিয়েতনামে থাকেন। মাস তিনেক আগে তিনি আক্রান্ত হন করোনাভাইরাসে। দেশটিতে শনাক্ত হওয়া ৯১ নম্বর কভিড রোগী তিনি। করোনা তাকে এতটাই কাবু করেছিল ডাক্তাররা এক পর্যায়ে বলে দেন তার বাঁচার আশা বড়জোর ১০ শতাংশ। কারণ তার ফুসফুসের মাত্র ১০ শতাংশ কার্যকর ছিল।
বিবিসি জানাচ্ছে, ক্যামেরনের শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভেন্টিলেটরে ঢোকানো হয়। দু মাসেরও বেশি সময় তিনি সেখানে অচেতন হয়ে পড়ে ছিলেন।
ক্যামেরন বিবিসিকে বলেন, আমার দেহের নানা জায়গায় রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছিল। শরীরের দুটো প্রত্যঙ্গ কাজ করছিল না। ফুসফুসের ক্ষমতা এক পর্যায়ে ১০ শতাংশে নেমে গিয়েছিল। আমাকে বলা হয়েছিল আমি এশিয়ার সবচেয়ে অসুস্থ রোগী হয়ে পড়েছিলাম।
চিকিৎসকদের বরাতে বিবিসি বলছে, তার শরীরের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে ভিয়েতনামের সরকার, চিকিৎসক সমাজ থেকে শুরু করে সে দেশের মিডিয়া পুরো সময়টি ধরে তার ওপর নজর রেখেছিল। স্টিভেন ক্যামেরনের মতো এত জটিল কভিড রোগী ভিয়েতনামের ডাক্তারদের সামলাতে হয়নি। ডাক্তাররা বলছেন, বেঁচে গেলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে তাকে বহুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে করোনা থেকে সেরে ওঠা ক্যামেরন এখন মানুষকে সাবধান করেন, ভুলেও যেন তারা এই ভাইরাসকে হেলাফেলা না করেন। তিনি বলেন, এই ভাইরাস যে কতটা ভয়ংকর আমি তার জলজ্যান্ত প্রমাণ।
যেদেশ থেকে তিনি বেঁচে ফিরেছেন, সেই ভিয়েতনাম এতটাই সতর্ক ছিল যে এখনো একজনও সেখানে কভিডে মারা যায়নি। ক্যামেরন যতদিন অচেতন ছিলেন, অধিকাংশ সময় তাকে ‘একম’ নামে বিশেষ একটি যন্ত্রের সাহায্যে বাঁচিয়ে রাখা হয়। রোগীর অবস্থা খুব খারাপ হলেই এই যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়।
এই যন্ত্রের সাহায্যে রোগীর শরীর থেকে রক্ত বের করে তাতে অক্সিজেন মিশিয়ে আবার তা শরীরে ঢোকানো হয়।
ক্যামেরন বলেন, এক পর্যায়ে আমার বন্ধু ক্রেইগ (ব্রিটিশ) পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানায় আমার বাঁচার সম্ভাবনা ১০ শতাংশ। সে আমার অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়ার চুক্তি বাতিল করে দেয় এবং আমার শবদেহ নিয়ে কী করবে তার পরিকল্পনা করতে শুরু করে দেয়।
কিন্তু ক্যামেরন মনে করেন তার সৌভাগ্য যে, তিনি ভিয়েতনামে অসুস্থ হয়েছিলেন। কারণ সাড়ে নয় কোটি মানুষের দেশে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪২০ জন কভিড রোগী সেখানে শনাক্ত হয়েছে। খুব অল্প সংখ্যক মানুষকে ইনটেনসিভ কেয়ারে নিতে হয়েছে, এবং এখনো একজনও মারা যায়নি।
তিনি বলেন, পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় এমন অসুস্থ হলে আমি মারা যেতাম। তারা ৩০ দিন পরেই ভেন্টিলেটরের সুইচ অফ করে দিত। ভিয়েতনামের মানুষ আমাকে যেভাবে তাদের হৃদয়ে জায়গা দিয়েছে, আমি তার জন্য ভীষণ কৃতজ্ঞ। তাদের ডাক্তাররা কোনোভাবেই চাননি যে আমি তাদের চোখের সামনে মারা যাই। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।