মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বন্ধ করে দেওয়া ধলই চা বাগান অবিলম্বে খুলে দেওয়ার দাবিতে কমলগঞ্জের শমশেরনগর চা বাগানে চা ছাত্র-যুব সমাজ মানববন্ধন পালন করেছেন।
রবিবার সকাল ১১টায় শমশেরনগর চা বাগানের চাতলাপুর সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীনের সভাপতিত্বে মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালীর সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা, ছাত্রনেতা মোহন রবিদাস, নারী নেত্রী মেরি রাল্ফ, ছাত্র নেতা কৃষ্ণ রাজভর, চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সম্পাদক শ্রীকান্ত কানু, বাবুল মাদ্রাজী প্রমুখ।
অন্যদিকে গত শুক্রবার সকাল ১০টায় চা ছাত্র-যুব পরিসধ ও চা শ্রমিকদের উদ্যোগে বাগান পঞ্চাযেত কমিটির সভাপতি গনেশ পাত্রের সভাপতিত্বে ও সজল কৈরীর সঞ্চালনায় আলীনগর চা বাগান কারখানার সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
তাছাড়া শুক্রবার বেলা আড়াইটায় চা বাগান ছাত্র সমাজের উদ্যোগে ছাত্র নেতা প্রদীপ পাশির সঞ্চালনায় ধলই চা বাগান হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
৩টি চা বাগানে অনুষ্ঠিত পৃথক ৩টি মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শ্রম আইন লঙ্ঘন করে ধলই চা বাগান কোম্পানি ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় নোটিশ দিয়ে চা বাগান বন্ধ ঘোষণা করেছে। যা সম্পূর্ণরুপে বেআইনি।
গত বুধবার (২৯ জুলাই) কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদে উপজেলা প্রশাসন, চা বাগান মালিক পক্ষ, চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলা দেশীয় চা সংসদ প্রতিনিধি, শ্রম অধিদপ্তরের শ্রীমঙ্গলস্থ শ্রম কর্মকর্তা, চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ, ধলই চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সমন্বয়ে জরুরি বৈঠক হয়।
কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমানও এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘণ্টা চলা বৈঠকে শুধুমাত্র ধলই চা বাগান কোম্পানির অসহযোগিতায় কোনো সমাধান ছাড়া বৈঠক শেষ হয়। পরবর্তী আগামী ৪ আগস্ট বৈঠকে ধলই চা বাগান খোলা সিদ্ধান্ত গৃহীত না হলে আগামীতে চা শিল্পাঞ্চলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
কমলগঞ্জের ২২টি চা বাগান সূত্রে জানা যায়, পর্যায়ক্রমে সবগুলো চা বাগানে প্রাথমিকভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তারা আন্দোলন গড়ে তুলছেন।
আগামী ৪ আগস্ট কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদে চার পক্ষীয় বৈঠকে ধলই চা বাগান খোলার কোনো সিদ্ধান্ত না হলে চা শিল্পাঞ্চলের কঠোর কর্মসূটি ঘোষণা করা হবে বলে চা শ্রমিক, ছাত্র ও যুব নেতৃবৃন্দরা জানান।