ধানমন্ডিতে বাড়ি দখল

কাজী ফিরোজ রশীদের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র

সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের মামলায় জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম দুদকের জিআর শাখায় এই অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, রাজধানীর ৯/এ, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ২ নম্বর রোডে এক বিঘা সরকারি জমিসহ বাড়িটি প্লট নম্বর ১০, বাড়ি নম্বর-৬৫ ভুয়াদাতা সাজিয়ে জাল দলিলের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দুদক পরিচালক (সাবেক উপ-পরিচালক) জুলফিকার আলী বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, ১৯৫১ সালের ৩ নভেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ২ নম্বর রোডে এক বিঘা আয়তনের সরকারি জমিসহ বাড়ি যা তৎকালীন কানাডার হাইকমিশনার মোহাম্মদ আলীর অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে মরহুম মোহাম্মদ আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী বেগম আলিয়া মোহাম্মদ আলী, ছেলে সৈয়দ মাহমুদ আলী ও মেয়ে সৈয়দা মাহমুদা আলীর নামে হস্তান্তরে অনুমতিসহ ১৯৭০ সালের ৩০ মে মাসে নামজারি করা হয়। ১৯৭০ সালের ২২ মে মন্ত্রণালয় থেকে তাদের হস্তান্তর করার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু ১৯৭৯ সালের ১৬ আগস্টে সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ রেজিস্ট্রিকৃত ডিড অব এগ্রিমেন্ট ফর সেল নম্বর ৩১১৫৪ দলিলে ভুয়া দলিল দাতা বেগম আলিয়া মোহাম্মদ আলী ও সাক্ষী কাজী আরিফুর রহমান সাজিয়ে ও কাগজপত্র দেখিয়ে ওই সময়ের তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রার এম আহমেদের সহযোগিতায় উক্ত সম্পত্তি দখল করেন। তবে তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রার এম আহমেদের বিরুদ্ধে কোনো তথ্য না পাওয়ায় তাকে এজাহারভুক্ত করা হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল সন্ধ্যায় ফিরোজ রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মামলাটি অনেক পুরনো। এই মামলার বিরুদ্ধে আমি ২০১৭ সালে উচ্চ আদালতে রিট করি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ ঘোষণা করা) করে। বিষয়টি সেখানেই মীমাংসা হয়ে গেছে। এরপরও দুদক আদালতে এই মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়ায় আমি হতবাক হয়েছি। এখন আমি বিষয়টি আইনগতভাবেই মোকাবিলা করব। এ বিষয়ে আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি।’