আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয় রয়েছে। সরকার জঙ্গিগোষ্ঠীর বিষদাঁত ভেঙে দিলেও গোপনে গোপনে তাদের এখনো সক্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তারা সুযোগ খুঁজছে। দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন ওবায়দুল কাদের।
দেশে সিরিজ বোমা হামলার জন্য বিএনপি সরকারকে দায়ী করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলার জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি, নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, জনবল ও বোমা সরবরাহ এতসব এক দিনে গড়ে ওঠেনি। রাষ্ট্রযন্ত্র সেদিন নীরব ছিল কেন? নিশ্চয়ই সরকার প্রশ্রয়দাতা আর পৃষ্ঠপোষক ছিল। না হলে কীভাবে এ দীর্ঘ প্রস্তুতি জঙ্গিরা গ্রহণ করল। এ দেশের রাজনীতিতে তেমনি ১৫ আগস্টের মাধ্যমে নির্মম হত্যাকাণ্ডের সূচনা হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল, আবার ২০০৫ সালে সিরিজ বোমা হামলাও সেই আগস্ট মাসে। তাই বলব ১৫ আগস্ট, ১৭ আগস্ট, ২১ আগস্ট সবই একসূত্রে গাঁথা। এসব হত্যা ও ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড বিএনপি, এসব হত্যা-সন্ত্রাসও ষড়যন্ত্রের অংশ।’
বিএনপিকে জঙ্গিবাদের আশ্রয়দাতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ দেশে হত্যা, সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি উগ্র সাম্প্রদায়িকতা আর জঙ্গিবাদকে তারাই প্রশ্রয় দিয়েছে, লালন-পালন করে ক্যানসারে রূপান্তর করেছে। সেদিনের বোমা হামলা ছিল জেএমবিসহ উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর শক্তি প্রদর্শন এটি ছিল প্রকাশ্যে শক্তি প্রদর্শনের মহড়া। একযোগে তারা তাদের শক্তি জানান দিয়েছিল। ক্ষমতার মসনদে থেকে তাহলে কী করেছিল বিএনপি?’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার স্বপ্নের সমৃদ্ধ বাংলায় কোনো ষড়যন্ত্রকারীরই স্থান নেই। প্রশ্রয় নেই কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী এবং সাম্প্রদায়িক অপশক্তির। সব ষড়যন্ত্র মাড়িয়ে জনগণের ভালোবাসা এবং সমর্থন নিয়ে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির চলমান যে যাত্রা, তা এগিয়ে যাবে অদম্য গতিতেই।’
আগস্ট মাস এলেই দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিয়ে আওয়ামী লীগ শঙ্কায় থাকে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। সচেতন থাকতে হবে। আর কোনো ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট এ দেশে যেন না আসে। না আসে ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা কিংবা হলি আর্টিজান ঘটনা। চাই না রমনা বটমূলের মতো নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি।’
১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘প্রতিকূলতার স্রোত মাড়িয়ে ইতিহাসের নানা বাঁক পেরিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর রক্তের উত্তরাধিকার ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসেন। শুরু করেন দল গোছানোর কাজ, গড়ে তোলেন ঐক্য। স্বজন হারানোর বেদনাকে তিনি শক্তিতে রূপান্তর করেন। মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার মাঝে খুঁজে নেন প্রিয়জন হারানোর কষ্ট। শেখ হাসিনা আছেন বলেই ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে। জাতির কলঙ্কমোচন হয়েছে। তিনি আছেন বলেই যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়েছে।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘উন্নয়নবিরোধী অপশক্তি এখনো আছে চারপাশে। তারা দেশের উন্নয়ন ও এগিয়ে যাওয়াকে মেনে নিতে পারে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমৃদ্ধ আগামীর পথে এগিয়ে যাওয়া তাদের গাত্রদাহ। তারা দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় নিয়ে যেতে চায়, চায় সংঘাতে জর্জরিত রক্তময় প্রান্তর। সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে দেশের এগিয়ে যাওয়ার পথ বন্ধ করতে চায়।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফির সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ প্রমুখ।