পাসপোর্টের কার্যক্রম শুরু রবিবার

কভিড-১৯ মহামারীর কারণে পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাসপোর্টের কার্যক্রম আগামী রবিবার শুরু করছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (ডিআইপি)। গত বুধবার ডিআইপির পরিচালক (পাসপোর্ট, ভিসা ও পরিদর্শন) মো. সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ও পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক সীমিত পরিসরে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এবং ই-পাসপোর্টের এনরোলমেন্ট (নতুন ও রি-ইস্যু) কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ২৩ মার্চ থেকে পাসপোর্টের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। তবে পাসপোর্ট রি-ইস্যু সবসময় চালু ছিল। ওই সময় থেকে এমআরপি ও ই-পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক কার্যক্রম স্থগিত ছিল।

পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জরুরি আবেদনকারী ছাড়া নতুন পাসপোর্ট ইস্যু বন্ধ রাখা হয়। পাসপোর্ট ইস্যুর সঙ্গে আঙুলের ছাপ নেওয়া, চোখের আইরিশ, ছবিসহ বেশকিছু কার্যক্রম রয়েছে যাতে আবেদনকারীর সরাসরি উপস্থিতি প্রয়োজন। এ কারণেই পাসপোর্টের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল।

জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৮ হাজার থেকে ২০ হাজার পাসপোর্টের জন্য নতুন ও রি-ইস্যু আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ঢাকার আগারগাঁওয়ে দিনে গড়ে প্রায় দুই হাজার আবেদন জমা হয়। পাঁচ মাস সেই কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বড় ধরনের জটের সৃষ্টি হয়।

স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থগিত থাকায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিল লাখো নতুন পাসপোর্টপ্রত্যাশী। নতুন আবেদন জমা নেওয়া শুরু হলে সক্ষমতা অনুযায়ী চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

ডিআইপির এক কর্মকর্তা বলছেন, করোনার সময়ে পাসপোর্টের চাহিদাও অনেক কম ছিল। বন্ধের শুরুর দিকে হজে যেতে ইচ্ছুকদের স্পেশাল সার্ভিস দেওয়া হলেও সৌদি সরকার হজ বন্ধ ঘোষণা করলে সেই চাপও কমে যায়। তবে প্রবাসীদের চাহিদা বেশি ছিল। সাধারণ ছুটির সময় প্রবাসীদের চাহিদা অনুযায়ী আড়াই লাখ পাসপোর্ট প্রিন্ট করে সরবরাহ করা হয়েছে।