মালটা এবং কমলার ফলন বললেই সিলেটের নাম চলে আসতো। সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছেন বরিশালের কৃষক গুরুদাস ব্যানার্জী শ্যামল।
রসালো ও মিষ্টি মালটা এখন বরিশালের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এক মৌসুমে ৫০ মণের বেশি মালটার ফলন হবে তার বাগানে।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় রসালো মালটা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন গুরুদাস ব্যানার্জী শ্যামল। রাসায়নিক মুক্ত এবং খেতে সুস্বাদু হওয়ায় বরিরশালে এই মালটার কদরও বাড়ছে। শ্যামল ব্যানার্জীর সফলতা দেখে অনেকেই মালটা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। গুরুদাসকে অনুসরণ করে যারা মালটা চাষ করছে তাদের পরামর্শ এবং চারা দিয়ে সহযোগিতা দিচ্ছেন এই কৃষক।
সরেজমিনে গিয়ে গুরুদাস ব্যানার্জীকে তার খামারে কাজ করতে দেখা গেছে। তার মালটা বাগানটি একটি সবুজের হাতছানি। মালটার ভারে গাছগুলা নুয়ে পড়েছে। তাতে ঝুলে আছে অসংখ্য মালটা। মালটা বাগানের পাশে আছে কমলা, আম, আনারস বাগান। কমলায় এখনো ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হননি। আম বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন। তবে বেশি লাভবান হচ্ছেন মালটা বিক্রি করে।
গত মৌসুমে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালটা বিক্রি করেছেন গুরুদাস ব্যানার্জী। এ বছর দুই লাখ টাকার মালটা বিক্রি হবে আশা করছেন তিনি।
জানা যায়, উজিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শিকারপুর গ্রামের সফল কৃষক গুরুদাস ব্যানার্জী ওরফে শ্যামল ২০১৭ সালে মাত্র ৩০ শতক জমির উপরে তার মালটা বাগান করেন। এই বাগানে বারি মালটা-১ প্রজাতির গাছ রয়েছে। এ ছাড়া ইন্ডিয়ান একটি প্রজাতির কয়েকটি গাছ আছে।
বারি-১ প্রজাতির মালটা খেতে সুস্বাদু এবং মিষ্টি। ইন্ডিয়ান প্রজাতির মালটা একটু স্বাদে টক। তবে এই মালটায় বারি-১ মালটার চেয়ে রস বেশি। বরিশালের বাজারে গুরুদাসের কমলা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি তিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি করেন।
কৃষক গুরুদাস ব্যানার্জী শ্যামল বলেন, আমি পরীক্ষামূলকভাবে ২০১৭ সালে এই মালটা বাগানটি করি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে বারি-১ জাতের চারা রোপণ করি। ২০১৮ সালেই বাগান থেকে ফল পাওয়া শুরু হয়। তবে ব্যবসায়িকভাবে ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু।
গত বছর ৫০ মন মালটা বিক্রি হয়েছে। গত বছর দেড় লাখ টাকার মালটা বিক্রি হলেও এ বছর বিক্রি বাড়বে।
তিনি বলেন, এই মালটা রাসায়নিক, কেমিক্যাল ও ফরমালিনমুক্ত রসালো। অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা বাগান থেকে ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে আমদানি করা মালটার চেয়ে দামেও কম।
উজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন তালুকদার জানান, গুরুদাস ব্যানার্জী অত্যন্ত সফল কৃষক।
তিনি মালটা বাগানের পাশাপাশি আম, নারিকেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ বৃক্ষের বাগান করেছেন। প্রতিটি বাগানেই তিনি সফল হয়েছেন। তার মালটা চাষ দেখে এখন অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন।
উজিরপুরে ইতিমধ্যে শতাধিক মালটা বাগান হয়েছে। স্থানীয়দের প্রয়োজন মিটিয়ে বিভিন্ন শহরে বিক্রি হচ্ছে এখানের মালটা।
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার হালদার বলেন, একজন সফল কৃষক গুরুদাস ব্যানার্জী। তার ফসলি জমিতে তিনি বিভিন্ন বাগান করেছেন। তবে মালটা চাষে তিনি উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। সফল চাষি হিসেবে তিনি কৃষি বিভাগের পুরস্কারও পেয়েছেন।