ট্রলারডুবিতে নিহত ১০

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় যাত্রীবাহী একটি ট্রলার ডুবে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে বড়খাপন ইউনিয়নের রাজনগরে গুমাই নদীতে যাত্রীবাহী ট্রলারের সঙ্গে বালুবাহী বাল্কহেডের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের মধ্যে পাঁচ শিশু ও পাঁচ নারী রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর শিশুসহ মোট চারজন নিখোঁজ রয়েছে। এ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল ১০টার দিকে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর বাজার থেকে যাত্রীবাহী একটি ট্রলার নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনার উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রলারটিতে যাত্রী তোলা হয়। পরে কলকামান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের রাজনগর এলাকায় গুমাই নদীতে বালুবাহী একটি বাল্কহেডের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ট্রলারটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ট্রলারটির যাত্রী আবদুর রহমান বলেন, ‘মধ্যনগর ঘাট থেকে ট্রলারযোগে নেত্রকোনার ঠাকুরাকোনা যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে বালুবাহী বড় নৌকার সঙ্গে সংঘর্ষ হলে আমাদের ট্রলারটি ডুবে যেতে থাকে। সাঁতার কেটে তীরে উঠতে পারলেও নৌকার ভেতরে থাকা অন্য যাত্রীদের অনেকেই বের হতে পারেননি।’

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী জানান, দুর্ঘটনার পর তল্লাশি চালিয়ে পাঁচ শিশু ও পাঁচ নারীর লাশ এবং ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া শিশুসহ মোট চারজন নিখোঁজ রয়েছে।

দুর্ঘটনাকবলিত ট্রলারে কতজন যাত্রী ছিল তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ট্রলারটিতে ২০-৩৫ জনের মতো যাত্রী ছিল।

দুর্ঘটনায় নিহত প্রতিটি পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান।

ট্রলারডুবিতে নিহতরা হলেন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার জামালপুর গ্রামের কবীর মিয়ার স্ত্রী সুলতানা বেগম (৪০) ও তার তিন বছরের ছেলে আল মুজাহিদ, একই উপজেলার কামাউড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী লাকি আক্তার (৩০) ও তার আড়াই বছরের ছেলে জাহিদ মিয়া, চার বছরের মেয়ে টুম্পা আক্তার, একই এলাকার ছায়েদ আলীর স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৫০), আলমগীরের ছয় বছরের ছেলে অনিক মিয়া, আবদুল ওয়াহাবের স্ত্রী লুৎফুন্নাহার (২৫) ও তার দুই বছরের ছেলে রাকিবুল এবং নেত্রকোনার মেদনী এলাকার আবু চানের স্ত্রী হামিদা আক্তার।

চারজন নিখোঁজের মধ্যে ইনাতনগর গ্রামের আবদুল ওয়াহাবের শিশুকন্যা মনিরাসহ (৫) একই এলাকার আবদুল হান্নানের ছেলে রতন মিয়া (৩৫) ও ফাতেমা আক্তার (৩৫) এবং মোফাজ্জল নামের একজন রয়েছেন।

কলমাকান্দা থানার ওসি মো. মাজাহারুল করিম বলেন, ‘নিহতদের পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুর্ঘটনাকবলিত বাল্কহেড ও ট্রলার জব্দ এবং মাঝিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।’

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘বালুবাহী স্টিল বডির নৌকার ধাক্কায় যাত্রীবোঝাই ট্রলারটি ডুবে যায়। নারী, শিশুসহ ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ট্রলারটিতে আনুমানিক ৩৫ জনের মতো বেশি যাত্রী ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। স্থানীয়রা সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহত ১০ জন ও ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করে। ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।’