ঢাকার নটর ডেম কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ফাদার রিচার্ড উইলিয়াম টিম গত ১১ সেপ্টেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। জীববিজ্ঞানী, শিক্ষক, সমাজকর্মী, সুবক্তা, লেখক- সব মিলিয়ে ফাদার টিম বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। কর্মবীর এই গুণীকে নিয়ে লিখেছেন ওমর শাহেদ
ছেলেবেলা
রিচার্ড উইলিয়াম টিমের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ১৯২৩ সালের ২ মার্চ। বাবা-মা ছিলেন জার্মান বংশোদ্ভূত। বাবা জোসেফ পুলম্যান একটি কোম্পানির কোষাধ্যক্ষ আর মা জোসেফাইর ওটেন ছিলেন গৃহিণী। তারা ছিলেন রোমান ক্যাথলিক। শৈশব থেকে টিমের তিন ভাই ও বোন ধর্মীয় আচার-নিষ্ঠা পালনের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন। স্থানীয় গির্জায় ছোটবেলা থেকেই খণ্ডকালীন ছোটখাটো কাজ করতেন। টিম চার বছর বয়সে ভর্তি হন গির্জার সেন্ট মেরি’স গ্রেড স্কুল, এরপর সেন্ট মেরি’স হাইস্কুলে। স্কুলের শিক্ষক হিসেবে পেয়েছেন স্বনামধন্য সিস্টারদের। সেখান থেকে মিশনারি বা ধর্মপ্রচারকদের প্রতি তার অনুরাগ জন্মায়। সেন্ট মেরি’স স্কুলে পড়ার সময় সান্নিধ্য পান সিস্টার ক্লিওফাসের। তিনি ছোট্ট টিমকে উপহার দিয়েছিলেন রুপালি রঙের ফ্রেমে বাঁধানো ধর্মপ্রচারক সেইন্ট টেরেইজের ছবি। যাকে রোমান ক্যাথলিকরা আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। ‘দ্য লিটল ফ্লাওয়ার অব জেসাস’ নামেও তিনি পরিচিত। ‘পোপ পিউস টেন’ তাকে ‘আধুনিক সময়ের সাধক’ বলেছেন। সেইন্ট টেরেইজের বাঁধানো ছবি আর সিস্টার ক্লিওফাসের জীবজগতের প্রতি ভালোবাসা ও ঈশ্বরে ভক্তি বাকি জীবনে তার চলার পথের পাথেয় হয়েছে।
শৈশব থেকেই ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসতেন তিনি। মাত্র তিন বছর বয়সে মিশিগানে হারিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন বাবা তাদের দুই ভাইকে ডেকে নিয়ে চেয়ারে বসাতেন। আর রোমাঞ্চকরভাবে অজানা নানা জায়গায় নানা মানুষের বীরত্বের কাহিনীর গল্প বলতেন। সেই বীরদের মধ্যে ‘ভিনেতু’ নামের একজন আদিবাসী অ্যাপাচি প্রধান আছেন; যার কাহিনী লিখেছেন প্রসিদ্ধ জার্মান লেখক কার্ল মে। সেই গল্পে আছে একজন আদিবাসী আমেরিকানের সঙ্গে এক শে^তাঙ্গ আমেরিকানের ‘ভাই’য়ের সম্পর্ক তৈরি হয়। যদিও তিনি ছেলেবেলায় আদিবাসী ও আমেরিকানদের খারাপ মানুষ হিসেবে ভাবতেন। কিন্তু শৈশবে বাবার গল্পগুলোই ছোট্ট টিমের মধ্যে জীবনবোধ তৈরি করে দিয়েছিল, যা তাকে পরে পরিচালিত করেছে ‘মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বোধ গড়ে দিতে।’ বড় ভাই বব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের ওকিনাওয়াতে মারা গেছেন। ভাই হারানোর ব্যথাও তাকে আলোড়িত করেছে বারবার।
শিক্ষাবিদ
১৯৪৫ সালে ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেম থেকে টিম দর্শনে বিএ করেন। এরপর ১৯৫১ সালে জীববিদ্যায় এমএস করেন ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আমেরিকা থেকে। পরের বছর একই বিশ^বিদ্যালয় থেকে জীববিদ্যায় পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ২৯ বছর বয়সে ১৯৫২ সালে সেরা কলেজ নটর ডেম কলেজে যোগ দেন। সেই বছর থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক হিসেবে জীববিজ্ঞান পড়াতেন ছাত্রদের।
কেন বিজ্ঞান বিভাগ চালু করেছেন? এর উত্তরে ফাদার টিম বলেছিলেন, ‘আমার ভাবনায় ছিল বাংলাদেশের ছাত্ররা জীববিদ্যা বিষয়টা পড়ুক ও জানুক; একই সঙ্গে গবেষণায় যুক্ত হোক।’ জীববিদ্যার বিখ্যাত ‘ফুলব্রাইট’ শিক্ষাবৃত্তিতে প্রভাষক হিসেবে ঢাকার সরকারি মেডিকেল কলেজ (এখন ঢাকা মেডিকেল) ও গভর্নমেন্ট এক্সপেরিমেন্টাল ফার্মে ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেছেন। এরপর জীবন বীমা ‘পাকিস্তান ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল কাউন্সিল’-এর প্রকল্পে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত কাজ করেছেন। একই বিষয়ে থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনে সেতো রিসার্চ ফেলো (১৯৬৩ থেকে ১৯৬৪ সাল) ও নেমাটেলজির ভিজিটিং প্রফেসর ছিলেন। এ ছাড়া ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৯৬৮ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত জীববিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন। নটর ডেম কলেজের ষষ্ঠ অধ্যক্ষ ছিলেন ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত। কলেজে কেবল বিজ্ঞানের পাঠ দেওয়া নয়, ছাত্রদের নিয়ে ফাদার টিমই প্রথম গবেষণা শুরু করেছেন। তাদেরসহ অন্যদের নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করে তিনি জীবনের নানা পর্যায়ে মোট ২৫০ প্রজাতির পরজীবী কেঁচোকৃমি আবিষ্কার করেছেন। ৭০টি গবেষণাপত্র তৈরি করেছেন। তার নামে একটির বৈজ্ঞানিক নামকরণ করা হয়েছে ‘টিমিয়া পারভা’। তিনি বৈজ্ঞানিক অভিযান পরিচালনা করেছেন অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের পেঙ্গুইন থেকে শুরু করে দক্ষিণ এশিয়ার জলমগ্ন বনাঞ্চলেও। সুন্দরবনে তিনি অনেকগুলো অভিযান পরিচালনা করেছেন। আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকা মহাদেশেও অভিযানে গিয়েছেন। নটর ডেম কলেজের ডিরেক্টর অব স্টাডিজ ছিলেন। কলেজের ক্লাব কার্যক্রমের প্রাণ ছিলেন। বই লিখেছেন ‘দ্য টেক্সট বুক অব কলেজ বায়োলজি’। বইটি পূর্ববঙ্গের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত ছিল অনেক দিন ধরে।
ফাদার রিচার্ড উইলিয়াম টিম দীর্ঘজীবন পেয়েছিলেন। বেঁচেছিলেন ৯৭ বছর। শেষজীবনে অসুস্থ হয়ে চলে গিয়েছিলেন নিজের দেশে। নটর ডেম কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ফাদার হেমন্ত রোজারিও লিখেছেন, “আমাদের গুরুজন ফাদার টিম যুক্তরাষ্ট্রের নটর ডেম ইউনিভার্সিটির হলি ক্রস হাউসে ২০২০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মারা গিয়েছেন। তিনি অসাধারণ মেধাবী ছাত্র, জীববিদ্যায় এমএস ও পিএইচডিধারী। সেইন্ট গ্রেগরিজ হাইস্কুলের কলেজ শাখা হিসেবে নতুন প্রতিষ্ঠিত নটর ডেম কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ চালু করার দায়িত্ব নিয়ে ১৯৫২ সালে পূর্ববঙ্গে এসেছিলেন। কলেজে তিনটি ক্লাব চালু করেছেন ১৯৫৩ সালে ‘নটর ডেম কলেজ ডিবেটিং ক্লাব’, ১৯৫৫ সালে ‘নটর ডেম কলেজ সায়েন্স ক্লাব’, ১৯৬৬ সালে ‘নটর ডেম কলেজ অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব’। এ দেশের সবচেয়ে পুরনো শিক্ষা ক্লাব। তার নামে কলেজে ছয়তলা একটি ভবন তৈরি করে নামকরণ করা হয়েছে ‘ফাদার টিম ভবন’।”
মানবসেবা
ফাদার টিম বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিলেন। নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন বাংলাদেশিদের জীবন উন্নয়নে। ১৯৭০ সালের নভেম্বরে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সে সময় ফাদার চলে গিয়েছিলেন ভোলার মনপুরায়। সেই সময়টায় অসহায় মানুষদের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে ত্রাণ আনা, বিতরণের কাজ করেছেন। তিনি ‘সাইক্লোন রিহ্যাবিলিটেশন প্রজেক্ট-মনপুরা আইল্যান্ড’র (ঘূর্ণিঝড়ের পর পুনর্বাসন প্রকল্প-মনপুরা দ্বীপ) পরিচালক ছিলেন ১৯৭১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত। এ সময় ফাদার মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে অনেক ধরনের সাম্প্রদায়িক প্রতিহিংসারও শিকার হয়েছিলেন। তারপর মানুষের জন্য কাজ করেছেন। ফাদার টিম মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থীদের মধ্যেও ত্রাণ বিলিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আসল চিত্র তুলে ধরতে সচেষ্ট ছিলেন। ছাত্রদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে অনুপ্রাণিত করেছেন। ফাদার ১৯৭০ সালে ‘দ্য ক্রিশ্চিয়ান অর্গানাইজেশন ফর রিলিফ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের (কোর)’ প্রথম পরিকল্পনা অফিসার ছিলেন। পরে এটি যখন ১৯৭৬ সালে ‘কারিতাস বাংলাদেশ’ নামে আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হলো; তিনি ‘ডিরেক্টর’ নিযুক্ত হলেন। কারিতাস বাংলাদেশের পরামর্শক, অনেকগুলো প্রকল্পের বোর্ড মেম্বারও ছিলেন। পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করেছেন গ্রামের জমির সেচববস্থা, সব ধরনের নিষ্কাশন। পরিচালনা করেছেন স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পাটের হস্তশিল্পের কাজও।
অকৃতদার ফাদার টিম কাজের মাধ্যমে সব হারানো মানুষদের আপনজন হয়ে উঠেছিলেন। তাদের সত্যিকারের সহযাত্রী ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের গ্রামের মানুষদের সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে দেওয়া, পুনরায় শিক্ষকতা শুরু, পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, গ্রামের উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা কমানো এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করেছেন। ১৯৭৪ সালে ‘সবাই মিলে কাজ করার ধারণা’য় যে স্বেচ্ছাসেবা শুরু করেছেন, ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ফাদার টিম ১৩০টির বেশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার ‘দি অ্যাসোসিয়েশন অব দ্য ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিস ইন বাংলাদেশের (অ্যাডাব)’ ছিলেন পথপ্রদর্শক। ক্যাথলিক গির্জার মাধ্যমে সুবিচার ও শান্তিপ্রতিষ্ঠা করতে ১৯৭৪ সালে করেছেন ‘দ্য জাস্টিস অ্যান্ড পিস কমিশন’ গঠন করেছিলেন। সংগঠনের নির্বাহী সচিব হিসেবে ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজ করার সময় তিনি তুলে ধরেছেন আদিবাসীদের প্রতি শোষণ, নিম্নবৃত্তের মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করা এবং তাদের সত্যিকার অবস্থা তুলে ধরা বিষয়ে। গ্রামের ভূমিহীন নারীদের অনিশ্চিত জীবন এমনকি গার্মেন্টস ও তামাক পণ্য তৈরি প্রতিষ্ঠানেও খুব খারাপ অবস্থায় কাজ করা শ্রমিকদের নিয়েও কাজ করেছেন। সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য ১২টিরও বেশি সম্মেলনের পর কর্মজীবী নারীদের অনুরোধে ১৯৮৬ সালে মানবাধিকার কার্যক্রমের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিষ্ঠাতা সমন্বয়ক হিসেবে ‘দ্য কাউন্সিল ফর হিউম্যান রাইটস বাংলাদেশ’ চালু করলেন। তিন মেয়াদে ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এর সভাপতি ছিলেন। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক হিসেবে শুরু করলেন ‘দ্য সাউথ এশিয়ান ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস’। প্রধান ছিলেন তিন বছর। পাটের কাজে যুক্ত মানুষদের নিয়ে ফাদার টিম গড়েছেন ‘কোর-দ্য জুট ওয়ার্কার্স’। ১৯৯৮ সালের বন্যার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার আগ্রহের কারণেই নটর ডেম কলেজ ও কারিতাস বাংলাদেশ এ সময় ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। এই খাতে বহু বছর কাজ করতে গিয়ে ফাদার দেখেছেন ‘গ্রামের গরিব মানুষকে শোষণ করে আরও নিঃস্ব করে দেওয়াই হলো দারিদ্র্যের বড় কারণ। দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা বদলানোর চেয়ে মানুষকে পরিবর্তনের মাধ্যমেই উন্নয়ন সম্ভব।’ ফাদারদের মধ্যে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ এই মানুষটি তার স্বভাব অনুসারে সবখানেই নেতৃত্বের পদগুলো দ্রুত ছেড়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমার ভূমিকা হলো সংগঠনগুলোকে কার্যকর করে দেওয়া। তারপর একজন যোগ্য বাংলাদেশির হাতে তুলে দেওয়া।’
ম্যাগসাইসাই
১৯৮৭ সালে ফাদার রিচার্ড উইলিয়াম টিম এশিয়ার নোবেল ‘রামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছেন ‘ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারস্টাডিংয়ের জন্য। দ্য রামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন (আরএমএএফ) ট্রাস্টিরা জানিয়েছিলেন, ‘ফাদার রিচার্ড উইলিয়াম টিম ৩৫ বছর বাংলাদেশের মানুষের জন্য যে কাজ করেছেন, তার স্বীকৃতি দেওয়া হলো।’ ফাদার রিচার্ড উইলিয়াম টিম সবিনয়ে বলেছেন, ‘ফিলিপাইনে ১৯৫৪ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত চলা সেতো রিসার্চ ফেলোফিপের অধীনে যখন কেঁচোকৃমির ওপর কাজ করেছি; তখন তাদের রাষ্ট্রপতি রামন ম্যাগসাইসাইয়ের প্রতি সর্বশ্রেণির মানুষের কেমন ভালোবাসা ও সম্মান তা দেখতে পেয়েছি। দেশের প্রতি তার নীতি-দর্শন গভীরভাবে অনুভব করেছি। স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের জন্য নিজেকে যেভাবে উৎসর্গ করেছেন, তা দেখেছি। তাই তার নামের এই সম্মাননা নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসা থেকে গ্রহণ করছি।’ এ ছাড়া মানুষের মানবাধিকার আদায়ের সংগ্রামে পাশে আছেন তার স্বীকৃতি হিসেবে ফাদার টিম ১৯৮৭ সালেই ‘আবু সাঈদ চৌধুরী অ্যাওয়ার্ড ফর হিউম্যান রাইটস ইন সোশ্যাল সার্ভিস’ গ্রহণ করেন। তিনি এ দেশের নাগরিকত্ব লাভ করেছিলেন।
মণিকোঠায়
ফাদার টিমের কর্মজীবন নিয়ে কারিতাস ১৯৯৫ সালে প্রকাশ করেছে ‘ফরটি ইয়ারস ইন বাংলাদেশ : মেমরিস অব ফাদার টিম’। ‘দ্য প্ল্যান্ট-প্যারাসাইটিক নেমাটোডস অব থাইল্যান্ড অ্যান্ড দ্য ফিলিপিনস’ সিতো প্রকাশ করেছে ১৯৬৫ সালে। নটর ডেম কলেজের অধ্যক্ষ ফাদার হেমন্ত রোজারিও বলেছেন, ‘ফাদার টিম এই দেশে ৬৬ বছর বাস করেছেন। ভালোবাসা ও কাজের মাধ্যমে শিক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচারে অবিশ্বাস্য উদাহরণ রেখেছেন। একজন বিজ্ঞানী, শিক্ষক, দার্শনিক, সমাজকর্মী, সুবক্তা, লেখক এবং সবকিছু ছাপিয়ে এক মহৎ মানুষ ফাদার টিম বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। নিশ্চিতভাবেই জানি তিনি তার শত শত ছাত্রের জীবনে বেঁচে থাকবেন; বাংলাদেশের হাজার হাজার গরিবের মনে ঠাঁই হয়ে রইবেন।’