পাহাড়ও হয় বহু রঙের এমন জিজ্ঞাসায় বিস্ময় জাগতেই পারে। কিন্তু বিস্ময়ের কিছু নেই, বাস্তবেই এর নজির আছে। চীনের উত্তর-পশ্চিমাংশের গানসু সীমান্তে রয়েছে এমন একটি পাহাড়, যা রঙধনুর মতো সাতরঙা। ভূ-বিজ্ঞানীরা গবেষণায় পেয়েছেন, পাহাড়টি গড়ে উঠেছে বিভিন্ন বর্ণের শিলার সমন্বয়ে, যা বহুরঙা করে তুলেছে পাহাড়টিকে। ২০১০ সালে পর্যটনস্থান হিসেবে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি পায় এই রেইনবো মাউন্টেন। কী চমৎকার দৃশ্য একবার ভাবুন তো! আকাশ নয়, পাহাড়ের বুকে ফুটে উঠেছে রঙধনু! ওই সুউচ্চ পর্বতমালার যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই শুধু রঙের খেলা চোখ ধাঁধিয়ে দেবে। বর্ণিল ওই পাহাড়ের বাড়তি আকর্ষণ রয়েছে পর্যটকদের কাছে। ভূ-তাত্ত্বিকদের গবেষণা বলছে, চারশ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রেইনবো মাউন্টেন তৈরি হতে সময় লেগেছে দুই কোটি চল্লিশ লাখ বছর! পাহাড় ও সংশ্লিষ্ট এলাকার নাম ‘ঝাংগে দাংশা ন্যাশনাল পার্ক’।
পাহাড়টির রঙিন হওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে কাজ করছে এর ভূ-গর্ভস্থ টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষ। বহু বছর ধরে চলা এ সংঘর্ষের ফলে বেরিয়ে এসেছিল শিলাস্তর। সেই শিলাস্তরে মিশ্রিত ছিল সিলিকা, আয়রন, ক্লোরাইডসহ নানা রকম খনিজ পদার্থ। ঋতু পরিবর্তন, ঝড়, বৃষ্টি, তুষারপাত এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এসব শিলাস্তরের রূপ পরিবর্তিত হতে হতে তৈরি হয়েছে বর্তমানের রেইনবো মাউন্টেন। ওই পাহাড়ে ভ্রমণের সব থেকে উপযোগী সময় জুন থেকে সেপ্টেম্বর। ওই সময় প্রখর সূর্যতাপ ও বৃষ্টিতে পূর্ণ রূপ মেলে ধরে রেইনবো মাউন্টেন। রঙধনুর মতো সাতরঙা পাহাড়টি নিয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে এখনো চলছে গবেষণা।
