নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের পর এবার চাটখিলে বসতঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে (২৯) ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার ভোরে এ ঘটনার পর ওই গৃহবধূ থানায় মামলা করেছেন। দুপুরে মজিবুল রহমান শরীফ (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গৃহবধূকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে সেনবাগের ছাতারপাইয়া ইউনিয়নে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ এবং ফোনে ভিডিও চিত্র ধারণের পর ইন্টারনেটে ভিডিও ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পূর্ব ছাতারপাইয়া গ্রাম থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। আটককৃতরা হলো, উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের পূর্ব ছাতারপাইয়া এলাকার শুভ (১৯), হাসান (১৯), রকি (২০)।
চাটখিলের ঘটনায় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল ভোর ৫টার দিকে ওই গৃহবধূ তার নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। শরীফ কৌশলে গৃহবধূর টিনশেড ঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ এবং ভিডিও ধারণ করে পালিয়ে যায়। পরে দুপুর ৩টার দিকে নোয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াছিন বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামি শরীফের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলাসহ ৮টি মামলা রয়েছে।
চাটখিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দুলাল মিয়া জানান, শরীফকে আটক করলেও ভিডিও ধারণ করা ফোনটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফোনটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
সেনবাগের ঘটনায় মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর রাতে বাড়ির ভেতর চাচাতো দেবর ঘরে ঢুকে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। ধর্ষকের সহযোগীরা ওই গৃহবধূকে ধর্ষকের পাশে বসিয়ে মুঠোফোনে ভিডিও চিত্র ধারণ করে। পরে ইন্টারনেটে ভিডিও ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে নির্যাতিতা গৃহবধূ ও তার স্বামীর কাছে ত্রিশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে পারভেজ ও তার সহযোগীরা।
সেনবাগ থানার পরিদর্শক (ওসি) আবদুল বাতেন মৃধা জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে মামলা করেন। আসামিদের গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে কলেজছাত্রীকে দলবেধে ধর্ষণ : টাঙ্গাইলের গোপালপুরে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এক কলেজছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার রাতে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কাগুজিআটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরের দিন মঙ্গলবার রাতে বাদী হয়ে মেয়েটির মা গোপালপুর থানায় মামলা করেন।
টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কলেজছাত্রী সাংবাদিকদের জানান, একই গ্রামের শফিকুল ইসলাম প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করত। সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় মোহনপুর বাজার থেকে তিনি বাড়ি ফেরার পথে ওঁৎ পেতে থাকা শফিকুল, এনামুল, জালাল, আবদুল খালেক ও আলতাব হোসেন তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে শফিকুলের বাড়িতে রাতভর ধর্ষণ করে। পরের দিন ভোরে তাকে মোহনপুর ঘাটে রেখে যাওয়া হয়।
তবে শফিকুলের চাচা আবদুর রশিদের দাবি, ‘মেয়েটির নানা পুলিশে চাকরি করতেন। তার দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে কাবিন ছাড়া শফিকুলের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের কয়েক বছর পর তাদের দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। একপর্যায়ে মৌখিকভাবে বিচ্ছেদও হয়। সম্প্রতি শফিকুলের অন্যত্র বিয়ের কথাবার্তা চলছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মেয়েটি তার নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা দিয়েছে।’
মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হালিমুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘মেয়েটির সঙ্গে শফিকুলের বিয়ে হলেও প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় কাবিন বাদ ছিল। কয়েক মাস আগে তাদের মধ্যে মৌখিক বিচ্ছেদ (তালাক) হয়। শফিকুলের অন্যত্র বিয়ের দিন ঠিক হলে মেয়েটি তার বাড়িতে গিয়ে ওঠে। কিন্তু শফিকুলের পরিবার তাকে জোর করে নানার বাড়িতে রেখে আসে। এখন শুনছি শফিকুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দেওয়া হয়েছে।’
টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শফিকুল ইসলাম সজীব বলেন, ‘মেয়েটির চিকিৎসা চলছে। ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে ধর্ষণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
গোপালপুর থানার ওসি মো. মোশাররফ হোসেন জানান, মেয়েটির মা বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে মামলা করেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।