শরীরে তাবিজ লেখার নামে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে

মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে। যৌন হয়রানির শিকার ওই ছাত্রীর অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে অভিযুক্ত মাদ্রাসা পরিচালকের শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করে। মাদ্রাসা পরিচালক মাওলানা আনোয়ার কাসেমী পলাতক রয়েছেন।      

জানা গেছে রংপুর সদরের সদ্যপুস্করিণী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঠাটারিপাড়া আজিজুল উলুম মহিলা  মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম কাসেমী তার বাড়ির পাশে মহিলা মাদ্রাসা স্থাপন করে। সেখানে আবাসিক ছাত্রী আছে ৩০ জন।

ওই ছাত্রীর অভিযোগে জানা গেছে, মাদ্রাসায় শুক্রবার বন্ধ থাকে। অনেকে বাড়ি চলে যায়। এ সুযোগে মাদ্রাসার  এক ছাত্রীকে বলেন, তিনি গায়ে তাবিজ লিখে দিলে এক মাসের মধ্যে বিয়ে হবে এবং ভালো স্বামী পাওয়া যাবে। তার কথায় বিশ্বাস করে ওই ছাত্রী রাজি হন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে ছাত্রীর বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় তাবিজ লিখে দেন। এভাবে তিন দিন তিনি ওই ছাত্রীর ওপর যৌন নিপীড়ন চালান। ছাত্রী  কাউকে না বলে মাদ্রাসা থেকে বাড়ি চলে যায়। প্রথমে ঘটনাটি তার বাবা-মাকে বলেন। এরপর তাকে নির্যাতনের কথা স্থানীয় সাংবাদিক ও ফেইসবুকে প্রচার করেন।  মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনা জানাজানি হলে অভিযুক্ত মাদ্রাসা পরিচালক মাওলানা আনোয়ার কাসেমী পলাতক রয়েছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় পরিচালকের শান্তি দাবি করে সোমবার পালিচড়া হাটে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। আনোয়ার হোসেন কাসেমী ওয়ার্ড জাপা নেতা বলে জানা গেছে।

এ দিকে এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি ও মামলা না করতে যৌন নিপীড়নের শিকার ছাত্রী ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এ ব্যাপারে রংপুর সদর থানার ওসি সাহেদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, ঘটনাটি শুনেছি তবে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।