পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। কোনো পুলিশ সদস্য অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবে না। পুলিশে দুর্নীতিবাজদের কোনো জায়গা নেই। পুলিশ হবে ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজারবাগে পুলিশ অডিটরিয়ামে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরতদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের দ্বিতীয় দিনে সাব-ইন্সপেক্টর, সার্জেন্ট এবং ইন্সপেক্টরদের প্রতি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অতিরিক্ত আইজিপি ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, এসবিপ্রধান মীর শহীদুল ইসলাম, সিআইডিপ্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান এবং ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইজিপি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি সেক্টরে উন্নয়ন হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশও বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক এগিয়েছে। পুলিশ সদস্যদের মনোজগতের পরিবর্তন দরকার, দরকার তাদের আচরণের পরিবর্তন। মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা থেকে সচেতনভাবে বেরিয়ে আসতে হবে। তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। মানুষের ওপর শারীরিক শক্তি প্রয়োগ না করে আইনি সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করলে, তাদের উপকার করলে মানুষ তা মনে রাখে, প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করে। বর্তমান করোনাকালে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের মনোভাব এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। নিজের কাজকে ভালোবাসতে হবে। পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে পুলিশের মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুণœ রাখতে হবে।’
পুলিশ সদস্যদের কল্যাণের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, প্রচলিত কল্যাণ ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে ন্যায় ও ন্যায্যভাবে পুলিশ সদস্যদের কল্যাণের ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমান করোনাকালে পুলিশের চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের আরও আধুনিকায়ন করা হবে। দেশের আটটি বিভাগে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। পুলিশ মেডিকেল সার্ভিস প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’