চলতি বছর নারী নির্যাতন ৭০% বেড়েছে : টিআইবি

গত বছরের তুলনায় চলতি বছর নারী নির্যাতনের ঘটনা ৭০ শতাংশ বেড়েছে উল্লেখ করে আইনের কঠোর প্রয়োগ চেয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির দাবি, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অদক্ষতা, অবহেলা ও পক্ষপাতিত্ব, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও ক্ষমতার যোগসাজশসহ করোনা সংকটের কারণে নির্যাতন ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার নারীদের আইনি সহায়তা দেয় এমন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের হিসাবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর মার্চ-এপ্রিল মাস নাগাদ নারী নির্যাতনের ঘটনা ৭০ শতাংশ বেড়েছে। গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছেন ১৯২ জন। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে পারিবারিক নির্যাতনে মারা গেছেন ২৩৫ নারী।’

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এবং পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন-২০১০ বলবৎ থাকার পরও মামলায় দোষীদের সাজা খুব কম হয় উল্লেখ করে ড. ইফতেখার বলেন, ‘সরকারি নয়টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের একটির হিসাবে দেখা গেছে, প্রায় ১১ হাজার নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনার মধ্যে মাত্র ১৬০টির ক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা সম্ভব হয়েছে। চূড়ান্ত বিচারে মাত্র ১ শতাংশ ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে জানা যায়। অর্থাৎ ৯৯ শতাংশ ঘটনার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়নি।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মামলা উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে বন্ধ রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ করার মাধ্যমে বিচারহীনতার ঝুঁকি সৃষ্টি করা হচ্ছে। সাধারণ ভুক্তভোগী যেখানে স্থানীয় পর্যায়ে থানা-পুলিশ করতেই অনভ্যস্ত কিংবা হয়রানির শিকার হয়, সেখানে উচ্চ আদালত পর্যন্ত মামলা পরিচালনা করা তাদের কল্পনারও অতীত। দুঃখজনকভাবে এক ধরনের ধারণার জন্ম হয়েছে যে, সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ করতে পারলে নতুন কোনো ঘটনার ডামাডোলে মানুষ একসময় ভুলে যাবে এবং শাস্তি এড়ানো সম্ভব হবে।