মাদ্রাসা ছাত্রদের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ‘লেলিয়ে দেওয়া’ এবং এক পুরুষকে নারী সাজিয়ে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বহুল আলোচিত শহরের কান্দিপাড়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস ও হেফাজত নেতা আব্দুর রহিম কাসেমীকে শিক্ষকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মাদ্রাসার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের (মজলিশে ইলমিয়া) সদস্যরা মঙ্গলবার জরুরী বৈঠক করে এমন সিদ্ধান্ত নেন বল জানা গেছে। শুক্রবার মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি মুবারকুল্লাহ স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি নোটিশ গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।
নোটিশ সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার ছাত্র ও বহিরাগতদের ভুল বুঝিয়ে বিক্ষোভ ও বিদ্রোহে লেলিয়ে দেন আব্দুর রহিম কাসেমী। তিনি মাদ্রাসার প্রবীণ একজন ওস্তাদের কক্ষের দরজায় লাথি মেরে তাকে লাঞ্চিত করেন এবং সন্ত্রাসী কায়দায় তাকে উঠিয়ে নিয়ে যান। তিনি শতবর্ষী মাদ্রাসাটির ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নষ্ট করে নিজ নেতৃত্বদানের লোভে বিদ্রোহের পরিবেশ তৈরি করেন।
আব্দুর রহিম কাসেমীর বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ, তিনি মুহতামিমকে ধমক দিয়ে মসজিদ ও মাদ্রাসার দপ্তরের সামনে ছাত্রদের বিদ্রোহে লেলিয়ে দেন।
নোটিশে বলা হয়, জামিয়ার দপ্তরের ফটকে লাথি মারাসহ হট্টগোল ও ত্রাসের সৃষ্টি করার অভিযোগ তুলে বলা হয়, তিনি মাদ্রাসায় কয়েকটি খুন হবে বলেও হুমকি দেন।
এতে আরো বলা হয়, আব্দুর রহিম কাসেমী প্রতিষ্ঠানের জনৈক খাদেম আব্দুল কুদ্দুছকে নারী সাজিয়ে মাদ্রাসার কয়েকজন ওস্তাদকে ‘ব্ল্যকমেল’র চেষ্টা করেন। এ অপরাধে পুলিশ আব্দুল কুদ্দুছকে গ্রেপ্তার করে, যিনি এখনো পর্যন্ত কারাগারে রয়েছেন।
নোটিশ বিষয়ে কাসেমী বলেন, নথিপত্র না পেয়ে কোনো বক্তব্য দেব না।