চিলিতে নতুন করে লকডাউন

এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা সব জায়গায়ই নতুন করে বাড়ছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ। এর মধ্যে দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ রুখতে অনেক দেশ ও অঞ্চলে আরোপ করা হয় কড়াকাড়ি। অবশ্য অনেক দেশই নভেম্বরের শুরুতে আরোপিত সেইসব কড়াকড়ি এখন শিথিল করতে যাচ্ছে। তবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে করোনার সংক্রমণ বাড়ায় গত সোমবার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ রাজধানী সান্তিয়াগোতে নতুন করে লকডাউন ঘোষণা করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে, গত সপ্তাহে শহরটিতে করোনার সংক্রমণ ১৮ শতাংশ বেড়ে গেছে।

চিলির স্বাস্থ্যমন্ত্রী এনরিক প্যারিস এ লকডাউনের পদক্ষেপ সম্পর্কে বলেছেন, পুরোপুরি কোয়ারেন্টাইনের বদলে ছুটির দিনে পূর্ণ লকডাউন ও সপ্তাহের অন্য সময় সীমিত কার্যক্রমের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ১ কোটি ৯০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে গত মার্চে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। গত জুন মাসে সেখানে করোনা সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়। এক দিনে সেখানে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। জনসংখ্যার হিসাবে সর্বোচ্চ করোনা শনাক্তের দিক থেকে কাতারের পরেই এর অবস্থান দাঁড়ায়।

গত আগস্ট মাস থেকে ধাপে ধাপে লকডাউন তুলে নিতে শুরু করে দেশটি। গত সপ্তাহ থেকে দেশটিতে আবার করোনার সংক্রমণ ১৮ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় পরিকল্পনা বদল করে লকডাউনে ফিরে যেতে হচ্ছে।

চিলির স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আংশিক লকডাউনে ফিরে আসা একটি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ। এতে আগের পূর্ণ ও দীর্ঘ লকডাউনের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সমস্যার মতো বিষয়গুলো এড়ানো যেতে পারে। মেট্রোপলিটন অঞ্চলের বাসিন্দার সংখ্যা বিবেচনা করে ১৮ শতাংশ সংক্রমণ বাড়ার চিত্রটি আমাদের জন্য ধাক্কা ও উদ্বেগের।

করোনাভাইরাসের হালনাগাদ তথ্য দেওয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ কোটি ৮০ লাখ ৮৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭০০ জনের। এই সময় পর্যন্ত অবশ্য ৪ কোটি ৭১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ সুস্থ হয়েছে।

এদিকে দেশ হিসেবে করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। করোনায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৫৩ লাখ ৩০ হাজার ১৫৬ জন। দেশটিতে করোনার মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার ৮১৬ জনের। মোট মৃতের দিক থেকেও প্রথমে রয়েছে দেশটি।

আক্রান্তের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯৭ লাখ ৫ হাজার। এর মধ্যে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ব্রাজিলে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬ লাখ ২৬ হাজার ৬৫। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তালিকায় রাশিয়ার অবস্থান চতুর্থ। ফ্রান্স পঞ্চম। যুক্তরাজ্য ষষ্ঠ। ইতালি সপ্তম। স্পেন অষ্টম। আর্জেন্টিনা নবম। কলম্বিয়া দশম। উৎপত্তিস্থল চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৬ হাজার ৬১৯। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।