অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সীমান্তে দুর্ঘটনা: দোরাইস্বামী

সীমান্ত হত্যার জন্য অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে দায়ি করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

রোববার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, সীমান্তে অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার ৯৫ শতাংশ ঘটে ভারতের সীমান্ত এলাকায়। ৮৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে রাত ১০টার পরে। এসময় অবৈধ অনুপ্রবেশও ঘটে।

এসব ঘটনা বন্ধে সীমান্তে বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উদ্যোগ নেওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন ভারতের হাই কমিশনার।

ভারত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন চায় জানিয়ে বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারত ও বাংলাদেশের অবস্থানের কোনো পার্থক্য নেই।

দোরাইস্বামী বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। এটা প্রশংসার দাবি রাখে। রোহিঙ্গাদের এখানে রাখার জন্য যে সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়েছে তা চমৎকার। এটা একদম পরিষ্কার, আমরা মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন চাই। সবক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতা থাকবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়া বাংলাদেশের সমাজ ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 

নিপীড়নের মুখে পালিয়ে এসে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশে শরণার্থী জীবন কাটাচ্ছে। তাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি করলেও এখনও প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি।

বিক্রম দোরাইস্বামী প্রেস ক্লাবে তার বক্তব্যের শুরুতে বাংলাদেশের ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ চট্টগ্রামের ভুয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম চার শ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব বাণিজ্যের গেটওয়ে। এর সোনালী অতীত রয়েছে। ভবিষ্যতের হিসেবে অর্থনৈতিক দিক থেকে চট্টগ্রামের গুরুত্ব আরও বেশি।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ। অন্যান্যের মধ্যে চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জী ও ক্লাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সালাহ উদ্দিন মো. রেজা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।