প্রকাশ হয়েছে বাংলাদেশের প্রবীণ উর্দুভাষী কবি আহমেদ ইলিয়াসকে নিয়ে ‘মননরেখা’র সপ্তম সংখ্যা। এটি উর্দুভাষা ও সাহিত্যকেন্দ্রিক দ্বিতীয় সংকলন। এর আগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের আরেক কিংবদন্তিতুল্য উর্দুকবি নওশাদ নূরীকে নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ হয়।
ডিসেম্বরে বাজারে আসা পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন মিজানুর রহমান নাসিম। প্রচ্ছদ করেছেন আরাফাত করিম ও অলংকরণে অজিত দাশ। উৎসর্গ করা হয়েছে বিখ্যাত অনুবাদক প্রয়াত জাফর আলমকে।
নানান ধরনের লেখায় সাজানো হয়েছে ‘মননরেখা’র আহমেদ ইলিয়াস সংখ্যা। সম্পাদকীয়ের পরপরই আছে এই কবির সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি।
রয়েছে একগুচ্ছ প্রবন্ধ— উর্দুভাষী বাংলাদেশি কবিদের আখ্যান: জাভেদ হুসেন, আমার বন্ধু আহমেদ ইলিয়াস: আসাদ চৌধুরী, আহমেদ ইলিয়াস ও পার্টিশন সাহিত্য: মফিদুল হক, একজন সৎ বুদ্ধিজীবীর প্রতিকৃতি : খালিকুজ্জামান ইলিয়াস, সেইসব ঝরাপাতা ও ইলিয়াসের ‘দেশ’ : মননকুমার মণ্ডল, উর্দু কবিতার বাংলাদেশি সংশপ্তক: এ টি এম মোস্তফা কামাল এবং আহমেদ ইলিয়াসদের প্রতি বাংলাদেশের দায় : আলতাফ পারভেজ।
আরও লিখেছেন মো. মেহেদী হাসান, সিন মিম সাজিদ, রুখসানা কাজল, জহির হাসান, ফারুক ওয়াসিফ, সামিউল ইসলাম, জাহিদুর রহিম ও তসলিম হাসান।
প্রবন্ধ অনুবাদ করেছেন গৌরাঙ্গ হালদার, সালাম হামিদী, জাভেদ হুসেন, সালাম হামিদী, মাজদার হোসাইন। বই আলোচনা করেছেন মিজানুর রহমান নাসিম ও পিয়াস মজিদ।
রয়েছে আহমেদ ইলিয়াসের কবিতা, আত্মজীবনী ও প্রবন্ধের অনুবাদ। সঙ্গে দুটি সাক্ষাৎকার।
আহমেদ ইলিয়াসের জন্ম ১৯৩৪ সালের ২৬ জানুয়ারি, কলকাতায়। তার পূর্বপুরুষের ভিটা ভারতের বিহার রাজ্যের মুঙ্গের জেলায়। লেখাপড়া করেছেন কলকাতা মাদ্রাসা আলিয়ায় ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত। এরপর পারিবারিক সংকট, আর্থিক সমস্যায় যখন টালমাটাল জীবন, আর এক অবাঙালি বন্ধুর আহ্বানে ১৯৫০ সালে আগপাছ না ভেবেই ঢাকা চলে আসেন, যদি পড়ালেখাটা চালিয়ে যাওয়া যায় এই আশায়। কিন্তু টিকতে পারলেন না, ফিরে গেলেন কলকাতায়।
এবার ওখানকার বন্ধুদের সহায়তায় আবার শুরু করলেন। ইসলামিয়া হাইস্কুলে ভর্তি হলেও অসুস্থতার কারণে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারলেন না। হতাশ হয়ে ফের ১৯৫৩ সালে স্থায়ীভাবে ঢাকায় চলে এলেন। ১৯৫৮ সালে প্রাইভেটে ম্যাট্রিক পাশ করলেন, পরের বছর কর্মজীবনের পাশাপাশি নাইট শিফটে ভর্তি হলেন কায়েদে আযম কলেজ (সোহরাওয়ার্দী কলেজ)।
১৯৫৯ সালে হোসনে আরার সঙ্গে দাম্পত্যজীবন শুরু করেন। পাকিস্তান জিওলজিক্যাল সার্ভে বিভাগে সার্ভেয়ার হিসেবে কয়েক বছর কাজ করে ১৯৬২ সাল ঢাকা প্রেসক্লাবে ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন। এরপর সাংবাদিকতা পেশার শুরু ‘পাসবান’ পত্রিকায় উপ-সম্পাদক হিসেবে। ১৯৬৮-১৯৭১ পর্যন্ত ‘রুদাদ’, ‘জারিদা’, ‘ওয়াতান’, করাচিভিত্তিক ‘ডেইলি আজাদ’-সহ বিভিন্ন সংবাদপত্রে কর্মজীবন অতিবাহিত।
১৯৭০ সালে ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের পত্রিকা ‘ল্যায়ল ও নাহার’-এর ঢাকা প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান; সম্পাদনা বোর্ডের সদস্য মনোনীত হন। ১৯৮৩ সালে আল-ফালাহ বাংলাদেশ-এ কার্যনির্বাহী পরিচালক পদে যোগদান করেন।
বাংলা উর্দু সাহিত্য ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন আহমেদ ইলিয়াস। তার কবি প্রকাশিত উর্দু কাব্যগ্রন্থসমূহ— আইনা রেযে (১৯৮৯), হরফে দারীদা (২০১০), আযাবে আগহী (২০১৩), যখম শাখে হিজর কা (২০১৪), মাহাযে শব্ (২০১৫) এবং শিকস্ত ও রুখত। উল্লেখযোগ্য গদ্যগ্রন্থ— Biharis: The Indian Emigres in Bangladesh : An Objective Analysis, The World I Saw: Memoir of A Commoner; A Long Walk. গদ্য-পদ্য মিলিয়ে মোট ১৫টি প্রকাশিত গ্রন্থ, প্রকাশের অপেক্ষায় ৪টি। পেয়েছে শামসুল হক ফাউন্ডেশন, সৈয়দপুর কর্তৃক একুশে পদক (২০০৮), তমদ্দুন মজলিস, ঢাকা কর্তৃক ‘২১ ফেব্রুয়ারি পুরস্কার’ (২০০৯), কর্ণাটক উর্দু একাডেমি কর্তৃক সংবর্ধনা (২০১০) এবং জ্ঞাতিজন সংবর্ধনা (২০১৪)-সহ বেশ কিছু স্বীকৃতি।