হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির আহমদ শফী হত্যাকাণ্ডের মামলার সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর এলেনবাড়িতে গণপূর্ত অধিদপ্তরে বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
এদিকে, গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির সভা হয়েছে। ওই সভায় মাদক প্রতিরোধে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম যাতে জানতে পারে সেজন্যই বঙ্গবন্ধু কর্নার করা হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।’ এই সময় আহমদ শফী হত্যাকাণ্ডের মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লামা শফী সাহেবের অনুসারীরা, তার ভক্তরা কিংবা তার প্রিয়জনরা মামলাটি করেছেন। এর সঙ্গে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। মামলার তদন্তে পুলিশ সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’
বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার বিভাগ এই মামলাগুলো নিয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কী করবে, কত দ্রুততার সঙ্গে এটা শেষ করবে। আমাদের এখানে করার কিছু নেই। যেটা আমাদের করণীয় সেটা হলো তদন্ত করা। বিচার বিভাগের নির্দেশনা পেলে তদন্তটা আমরা সময়মতো করে দেব।’
জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক : গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সরাসরি এবং ভার্চুয়ালি অংশ নেয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মানস সভাপতি, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, ডক্টর মোহিত কামাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের কর্মকর্তারা। সভার সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহি, এসআই ও ইন্সপেক্টরদের মাদক নির্মূলে সহযোগিতার জন্য অস্ত্র প্রদান করতে জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব একটি কমিটি গঠন করবেন। কমিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিলে পরবর্তীকালে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কুরিয়ার সার্ভিসে মালামাল পরিবহনের সময় পরিবহনকারী ব্যক্তির এনআইডির ফটোকপি ও ছবি সংরক্ষণ করতে পারবে সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। দেশের পোর্টগুলোতে মাদক শনাক্তকরণের জন্য ডগ স্কোয়াড মোতায়েনের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক একটি ডগ স্কোয়ার্ড প্রজেক্ট গঠন করবেন। পরবর্তীকালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যাচাইয়ের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট, ল্যান্ড পোর্টে তা দেওয়া হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করে এনটিএমসির কার্যালয়ে মাদকদ্রব্যের একজন কর্মকর্তা অবস্থান করবেন। মাদকের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদকের কুফল সম্পর্কে প্রচারের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হবে। টিভি ও বেতারেও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করা হবে। পাঠ্যপুস্তকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে অনুরোধ করা হবে। নতুন চাকরিতে (সরকারি) যোগদানের সময়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, পরিবহন শ্রমিক এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় ডোপ টেস্ট করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা রয়েছে। সে আলোকে বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে। সারা দেশে মাদকের মামলাগুলো সমাধানের জন্য (বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা) প্রতি জেলায় বিশেষ এখতিয়ার সম্পন্ন করতে আদালত গঠনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হবে।