নির্বাচনী প্রচারে সরগরম মোংলা পোর্ট পৌরসভা

প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে মোংলা পোর্ট পৌরসভার নির্বাচন। আগামী ১৬ জানুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ভোটারদের মন জয় করতে দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি।

গতকাল রবিবার সকালে বর্তমান মেয়র ও বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জুলফিকার আলীকে পৌর শহরের তালুকদার আব্দুল খালেক সড়কে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আ. রহমান প্রচারণা চালিয়েছেন পৌর শহরের ছাড়াবাড়ী এলাকায়।

এছাড়া কাউন্সিলর প্রার্থীরাও নিজ নিজ এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে পৌর শহরজুড়ে শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের পোস্টার। পোস্টারে ছেয়ে গেছে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ছাড়াও সব অলিগলি।

প্রচারণাকালে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র জুলফিকার আলী বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে প্রথম দিকে একটু সমস্যা থাকলেও এখন সুষ্ঠুভাবে প্রচার-প্রচারণা করছি। তবে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ জনগণ যাতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে এ ব্যাপারে নিরাপত্তাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন ভালো থাকে সংশ্লিষ্টদের কাছে সেই প্রত্যাশা করছি।

নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী শেখ আ. রহমান বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর পর মোংলা পোর্ট পৌরসভার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীক দিয়ে আমাকে পৌরবাসীর কাছে পাঠিয়েছেন। মোংলার যত উন্নয়ন তা জননেত্রী শেখ হাসিনা, খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও স্থানীয় সাংসদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহারের মাধ্যমেই হয়েছে। সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে মোংলাবাসীর কাছে যাচ্ছি, তাদের কাছে ভোটের আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়া, বড়শি প্রতীকের অপর প্রার্থী পৌর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক মোকসেদুর রহমান গামার নির্বাচনী কোনো কার্যকলাপ নেই। পৌর এলাকার কোথাও দেখা যায়নি তার কোনো পোস্টার।

মোংলা পোর্ট পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে তিনজন ছাড়াও ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন ও সংরক্ষিত তিনটি মহিলা ওয়ার্ডে ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৯টি ওয়ার্ডের ১২টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।

এবারই প্রথম ইভিএম পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মোংলা পোর্ট পৌরসভার নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে পৌরসভায় ভোটার ৩১ হাজার ৫২৮ জন। এর আগে ২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এ পৌরসভায় ভোটারের সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ৯৫১ জন। ওই নির্বাচনের পর সীমানা জটিলতার মামলার কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হয়নি। 

উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার লক্ষ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।