দুইশ বছরের সীতারাম দিঘি ভরাট নিয়ে হাইকোর্টের রুল

বরিশালের সবচেয়ে বৃহৎ ও দুই শতাধিক বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ‘সীতারাম’ দিঘিটি এসএ ও আরএস পর্চা অনুযায়ী আগে কী অবস্থায় ছিল এবং বর্তমানে কী অবস্থায় আছে তা জানতে চেয়েছে উচ্চ আদালত। দিঘির কিয়দাংশ ভরাট নিয়ে করা একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ নির্দেশনা দেয়। বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তরকে বিষয়টি অনুসন্ধান করে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছে আদালত। ওই দিঘির কিয়দাংশ ভরাট কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এসএ ও আরএস পর্চা ম্যাপ অনুসারে সেটি  আগের অবস্থায় কেন ফিরিয়ে নেওয়া হবে না এবং দিঘির চারপাশ সৌন্দর্যবর্ধন করে কেন সেটি সংরক্ষণ করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী হাসান তারিক পলাশ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফারহানা পারভীন বীথি। আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফারহানা পারভীন বিথী বলেন, ‘দুই মাসের মধ্যে বরিশালের ডিসি ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

বরিশাল নগরীর প্রাচীন এই জলাধারের একাংশ বালি দিয়ে ভরাট করা এবং এক ব্যক্তির মালিকানার দাবি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ যুক্ত করে হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে স্থানীয় কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী হোসেনের বিরুদ্ধে ওই দিঘি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। জলাধার বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দিলেও চুপিসারে প্রতিনিয়ত ভরে ফেলা হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই জলাধারটি। বরিশাল নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন কাশীপুর বাজার এলাকার এই দিঘিটি স্থানীয়ভাবে সীতারামের দিঘি নামে পরিচিত। গত বছরের ৬ জুন দিঘির ভরাট বন্ধে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আইনি নোটিস পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।