আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে জমি দখল

খুলনার পাইকগাছায় ‘প্রভাবশালী’ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে এক সাংবাদিকের পৈতৃক জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। মহানন্দ অধিকারী মিন্টু নামে দৈনিক ভোরের পাতা পাইকগাছা প্রতিনিধির দাবি, দেশের বৃহত্তম একটি পরিবহন সেক্টরের কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে অভিজিৎ সাধু নামে ওই ব্যক্তির নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কেউই কথা বলছেন না। এমনকি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জানানোর পরও কোনো সমাধান মিলছে না। তাই ন্যায়বিচার দাবিতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৫ নভেম্বর ২০-২৫ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে তাদের মালিকানাধীন বসতবাড়ির জায়গায় হাঙ্গামা ও ত্রাস সৃষ্টি করে। ওই সময় জোরপূর্বক প্রায় ২২ শতক জায়গা জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, জমিতে থাকা মূল্যবান ফলদ ও বনজ গাছপালাও কেটে ফেলা হয়। এর প্রতিবাদে অভিজিৎ সাধু গংদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেন ভুক্তভোগীরা। এরপর কিছুদিন চুপ থাকলেও গত ২৩ ডিসেম্বর মিন্টু ও তার বৃদ্ধ মা-বাবাসহ পরিবারের আট সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় একটি মিথ্যা মামলা করে অভিজিৎ। ২৭ ডিসেম্বর আদালত উভয়পক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতিতে জমি পরিমাপের জন্য মৌখিক আদেশ প্রদান করে। কিন্তু অভিজিৎ জমি মাপতে রাজি হননি। পরে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে লোকজন নিয়ে ওই জমিতে সীমানা প্রাচীর ও বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু করেন।

মিন্টুর অভিযোগ, আদালত অভিজিৎকে এক মাসের মধ্যে এই বিষয়ে জবাব দিতে বলেছে। কিন্তু এখনো সে জবাব দেয়নি। আদালতের রায়ও তারা মানছে না। ইচ্ছামতো গায়ের জোরে তারা কাজ করে চলেছে। অভিজিৎ নিজেকে দেশের সবচেয়ে বড় পরিবহন সংস্থা ঈগলের ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে থাকেন। তাই কেউ তার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলে না।

তবে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিজিৎ সাধু। তিনি বলেন, ‘জমিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তাছাড়া আমার পক্ষে আদালতের রায় রয়েছে। জমি পরিমাপের জন্য তো আদালত লিখিতভাবে কোনো কিছু বলেনি।’

পাইকগাছা থানার ওসি এজাজ শফি বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জবর দখলকারী ও শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে থানা-পুলিশের নজরদারি রয়েছে।’

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, এ বিষয়ে কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যানকে মীমাংসা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভূমি অফিসের মাধ্যমেও জমি পরিমাপ করে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা চলছে।’