ইংরেজিতে প্রকাশ হচ্ছে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামা’

বাংলা সাহিত্যে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের অবদান অবিস্মরণীয়। কিন্তু সে তুলনায় ভিনভাষী পাঠকদের কাছে তিনি খুব একটা পৌঁছাননি।

হালে তার ‘খোয়াবনামা’ ও ‘চিলেকোঠার সেপাই’ উপন্যাস দুটি ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

এর মধ্যে সরাসরি বই আকারেই আসছে প্রথম উপন্যাসটি। অন্যদিকে একটি জার্নালে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ হচ্ছে।

‘খোয়াবনামা’ অনুবাদ করেছেন বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের অন্যতম প্রধান ইংরেজি অনুবাদক অরুনাভ সিনহা। বইটি প্রকাশ করছে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া।

‘চিলেকোঠার সেপাই’ অনুবাদ করেছেন ম্যাথিউ ডি. রিচ। ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে সাইমন জাকারিয়া সম্পাদিত ‘ভাবনগর’ জার্নালে। ম্যাথিউ এর আগে বিনয় মজুমদারের কবিতা অনুবাদ করছেন। 

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের লেখনি সম্পর্কে বলা হয়. বাস্তবতার নিপুণ চিত্রণ, ইতিহাস ও রাজনৈতিক জ্ঞান, গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও সূক্ষ্ম কৌতুকবোধ তার রচনাকে দিয়েছে ব্যতিক্রমী সুষমা।

১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে ইলিয়াসের জন্ম। তার পৈতৃক নিবাস বগুড়া শহরে। বগুড়া জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৫৮), ঢাকা কলেজ থেকে আইএ (১৯৬০) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় বিএ অনার্স (১৯৬৩) ও এমএ (১৯৬৪) ডিগ্রি লাভ করেন। এর পরপরই তিনি ঢাকার জগন্নাথ কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি মারা যান ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি।

‘চিলেকোঠার সেপাই’ প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৮৭ সালে। ‘খোয়াবনামা’ মলাটবদ্ধ হয় ১৯৯৬ সালে। তার অন্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ছোটগল্প সংকলন অন্য ঘরে অন্য স্বর (১৯৭৬), খোঁয়ারি (১৯৮২), দুধভাতে উৎপাত (১৯৮৫), দোজখের ওম (১৯৮৯) ও জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল (১৯৯৭) এবং প্রবন্ধ সংকলন সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু (১৯৯৮)।

সাহিত্যকীর্তির জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার-সহ অন্যান্য স্বীকৃতি পেয়েছেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।