পাবনার ঈশ্বরদীর রইস বয়াতি (৬০)। ৪৫ বছর ধরে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন হাটবাজারে গান গেয়ে টিকে আছেন। জীবন সায়াহ্নে এসে তিনি এখন অনেকটাই ক্লান্ত। ছেলে আর স্ত্রীকে নিয়ে সংসার তার চলতে চায় না। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রইস উদ্দিন শেখ মানুষের একটু সাহায্য চান। কিছু কিছু সাহায্য তাকে দিতে পারে স্বাভাবিক জীবন।
দেশ রূপান্তারেরর সঙ্গে আলাপে রইস উদ্দিন শেখ জানান, সপ্তাহের শনি থেকে শুক্রবার সকাল-সন্ধ্যা বসে বসে আপন মনে গান গাইতে থাকেন। প্রতিদিন মানুষ বেড়াতে আসেন পাকশির পদ্মা নদীর তীরে। অনেকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ-লালন শাহ সেতুর নিচে এসে রইসের সুরেলা কণ্ঠের গান উপভোগ করেন। তাকে কিছু সাহায্য করেন।
শনিবার বিকেলেও মাঘের শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে আপন মনে দোতারা বাজিয়ে গান গাইতে দেখা যায় রইস উদ্দিনকে।
এ সময় সেখানে গান শুনতে আসেন পাকশী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বাবুল, বগুড়া রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স জোনের ম্যানেজার মাহবুব আলম, সাংবাদিক ইয়াছিন শেখ, ছাত্রনেতা শরিফ ইসলাম প্রমুখ।
রইস উদ্দিন ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষিকুণ্ডা ইউনিয়নের ফকির মার্কেট এলাকার মৃত রাজমিস্ত্রি হাকিম উদ্দিন শেখের ছেলে। রইসের বড় ছেলে জসিম উদ্দিন শেখ (২০) বিয়ের পর সংসার শুরু করে আলাদা থাকেন। ছোট ছেলে শিমুল উদ্দিন (১৪) গ্রামের হাইস্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ছে।
ফোনে যোগাযোগ করা হলে রইস উদ্দিন সেখ বলেন, মানুষ আর হাটে লোকগান শুনতে ইচ্ছুক নয়। নতুন গান তুললে তা শুনে টাকা কেউ দেয় কেউ দেয় না।
তিনি জানান, আগে ঈশ্বরদী উপজেলার ইপিজেড মোড়, রূপপুর মোড়, দাশুড়িয়া ট্রাফিক মোড়, অরনকোলা গরু হাট এলাকায় ঘুরে ঘুরে গান গাইতে পারতেন। বয়সের কারণে এখন আর পারেন না।
তিনি জানান, তার বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। বাবার মৃত্যুর পর গান গেয়ে টাকা আয় করে অনেক কষ্টে তিনি তিন বোনের বিয়ে দেন। গান গেয়ে যা আয় করেন, তা দিয়ে চলে সংসার আর ছোট ছেলের পড়ালেখার খরচ।
তিনি জানান, যখন মাত্র দেড় বছর তখন টাইফয়েড জ্বরে ভালো চিকিৎসা সম্ভব হয়নি। ওই অসুখের প্রতিক্রিয়া চোখের জ্যোতি কমে যায়। স্বল্পদৃষ্টির কারণে সাত বছর বয়স থেকেই স্কুলে যাওয় সম্ভব হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের সময় রইসের বয়স মাত্র ১০ বছর। তখন বাড়িতে একা বসে বসে রেডিওতে গান শুনতেন। যা সহজেই মুখস্ত হয়ে যেত তার। সুন্দর কণ্ঠে সেই গান অন্যদের শোনাতেন এরপর। তবে কখনো ভাবেননি এটাই তার পেশা হয়ে যাবে।
রইস জানান, দিনে দুই থেকে তিন শ টাকা আয় করতে পারেন তিনি। জীবনের চলার পথ এখন তার জন্য কঠিন। তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্য চান। সহযোগিতা চান বিত্তবান মানুষদেরও।
পাকশি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, কখনো কোনাদিন কোনো সহযোগিতার জন্য রইস উদ্দিন আসেননি, যদি আসেন যতটুকু করণীয় তাকে সাহায্য করা হবে।
রইস উদ্দিন শেখের সঙ্গে যোগযোগের নাম্বর- ০১৭৩৮৪২১২০৫।
তাকে সাহায্য করার জন্য বিকাশ নাম্বার- ০১৭৪০৬৪৯৯৩০ (পারসোনাল)।