চট্টগ্রামে প্রথম করোনার টিকা নিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ভ্যাকসিন গ্রহণের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে করোনা টিকা প্রদানের কার্যক্রম। চট্টগ্রাম নগরীতে ৪২৩ জন এবং ১৪ উপজেলায় ৬৬৭ জন টিকা নিয়েছেন।

রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল কেন্দ্রে ভ্যাকসিন নেন উপমন্ত্রী নওফেল।

এরপর চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, ফিল্ড হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া টিকা নেন।

করোনা পরবর্তী জটিলতা পর্যবেক্ষণের জন্য তাদের ৩০ মিনিট বুথের ভেতরে রাখা হয়।

টিকা নেয়ার পর কোনো জটিলতা অনুভব করছেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপমন্ত্রী নওফেল বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা নিগেটিভ কোনোকিছু অনুভব করছি না। যে কোনো ধরনের ওষুধেরই কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। সুতরাং এটা নিয়ে ভয় পাবার কিছু নেই। আমরা যারা আজ নিয়েছি, আমরা এটা নিয়ে নেগেটিভ কিছু অনুভব করছি না।’

তিনি বলেন, ‘আপাতত অগ্রাধিকার তালিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিবন্ধন করা হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী, যাদের মধ্যে জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তি, স্বাস্থ্যখাতের লোকজন যারা সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে যান, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সবাই পাবেন এবং সবাই যেন ভ্যাকসিন নেন’।

এ ছাড়া রাজনীতিবিদদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং তার স্ত্রীও  টিকা নেন।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘যে কোনো ভ্যাকসিন নেয়ার পর কিন্তু সাধারণ একটু জ্বর, মাথাব্যাথা হতেই পারে। কিন্তু এ ধরনের কিছুই হচ্ছে না। সুতরাং এটা আরও বেশি নিরাপদ’।

রবিবার নগরীতে চমেক হাসপাতাল ও সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু হয়। এ ছাড়া জেলার ১৪ উপজেলায়ও করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা.  শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার সব উপজেলায় আমরা একসাথে কার্যক্রম শুরু করেছি। আজ শুধু চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। নগরীতে ১৫টি কেন্দ্র আছে। প্রত্যেকটিতে ৬টি করে বুথ আছে। এখন ৫৫ বছরের যারা আছেন তারা রেজিস্ট্রেশন করতে পারছেন’।

চমেক হাসপাতালের ৪র্থ তলায় ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য চারটি বুথ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বুথে পুরুষ এবং দুটি বুথে নারীদের করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে।

করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণের পর শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া কেউ আটকাতে পারবে না।  পৃথিবীর অনেক দেশে যেখানে ভ্যাকসিন পৌঁছায়নি, সেখানে আমাদের দেশে জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, এটা আমাদের জন্য অবশ্যই একটা গর্বের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা এদেশের সব মানুষের দায়িত্ব নিয়েছেন, সেটাই উনি প্রমাণ করেছেন। আমরা চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে উনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে অপপ্রচারের প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি অপপ্রচারকারী মহল, যারা উন্নয়ন এবং আমাদের অগ্রযাত্রায় হিংসার বশবর্তী হয়ে গুজব এবং অপপ্রচার চালাচ্ছে, ভ্যাকসিনেশন সম্পর্কে অপপ্রচার চালিয়ে যারা রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে, আমরা তাদের বলতে চাই- উন্নয়নের রাজনীতি, প্রগতির রাজনীতিকে তারা বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে, এটা কোনোভাবেই তারা আটকাতে পারবে না। এই অদম্য অগ্রযাত্রায় শেখ হাসিনার হাত ধরে আমরা এগিয়ে যাব, এই প্রত্যাশা আমরা করি।’

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে ৪২৩ জন টিকা নিয়েছেন। এরমধ্যে চমেকে ২৩৫, জেনারেল হাসপাতালে ৪০, নেভি হাসপাতালে ৫০, বিমান বাহিনী হাসপাতালে ৫০,  চট্টগ্রাম সিএমএইচে ২৮,  ভাটিয়ারি বিএমএতে ২০।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন,  ১৪ উপজেলায় রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ৭৬৬০ জনের। রবিবার টিকা নিয়েছে ১৪ উপজেলার ৬৬৭ জন।