আলমডাঙ্গায় ৬টি নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌরসভায় গত বৃহস্পতিবার রাতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হাসান কাদির গনু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাসদের এম সবেদ আলীর সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়ালে তিনজন রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় ছয়টি নির্বাচনী অফিস। এতে শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগ ও জাসদের নেতাকর্মীদের দুই পক্ষই মারমুখী অবস্থানে থাকায় আবার সংঘর্ষের আশঙ্কায় আলমডাঙ্গায় বাড়তি পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ২০-৩০ জনের একটি দল আলমডাঙ্গা শহরের কলেজপাড়া ও হাউজপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাসদ নেতা এম সবেদ আলীর নির্বাচনী অফিসে হামলা চালায়। ভাঙচুর করা হয় অফিসের আসবাব, মোটরসাইকেল।

এ সংবাদ শহরে ছড়িয়ে পড়লে ফুঁসে ওঠেন জাসদের নেতাকর্মীরা। ঘটনার পরপরই জাসদের শত শত নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। হামলার পাল্টা হিসেবে তারা শহরের চাতালমোড়ের আওয়ামী লীগের প্রধান নির্বাচনী অফিসে হামলা চালায়। ভাঙচুর করা হয় অফিসের আসবাবসহ দরকারি সব জিনিস। এ সময় পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয় নৌকা প্রতীকের সমর্থক এরশাদপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আবদুর রশিদ, জিন্নাহর ছেলে শাহীন ও জামিলের ছেলে বিপ্লবকে। এরপর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জাসদ নেতাকর্মীরা আলমডাঙ্গা শহরের কলেজপাড়া ও শেফা ক্লিনিকের পাশে নৌকার আরও দুটি নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। রাত ১১টার দিকে পৌর শহরের গোবিন্দপুর হরিতলায় নৌকার নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। জাসদের শত শত নেতাকর্মী শহরের কলেজপাড়ার ছাত্রলীগ নেতা পারভেজ মিডেলের বাড়িতেও হামলা চালায়।

এ সময় পুলিশের সঙ্গে কয়েকটি স্থানে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন জাসদ নেতা এম সবেদ আলীর সমর্থকরা। পরে পুলিশ সদস্যদের মারমুখি আচরণে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় তারা।

এদিকে, হামলার সময় গোটা আলমডাঙ্গা শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বড় সংঘাতের আশঙ্কায় রাস্তা ও দোকানপাট ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান পৌরবাসী। ঘটনার পর উপজেলা শহরের কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগ ও জাসদ নেতাকর্মীরা অবস্থান নিলে উত্তেজনা আর ছড়িয়ে পড়ে। নতুন করে অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

অপরদিকে, রাতের হামলার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার বিকেলে আলমডাঙ্গার গোবিন্দপুরে সমাবেশ ও মানববন্ধন করে জাসদ।

আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাসান কাদির গনু ঘটনার ব্যাপারে বলেন, জাসদ নেতাকর্মীরা শহরে তা-ব চালিয়েছে। আমার তিন নেতাকর্মীকে কুপিয়ে জখম করেছে। এ ব্যাপারে মামলা করেছি।