কথাসাহিত্যে শওকত আলী নক্ষত্র বিন্দু: সেমিনারে বক্তারা

‘বাংলা কথাসাহিত্যে শওকত আলী একটি নক্ষত্র বিন্দু। তার প্রথম গল্প থেকে শুরু করে শেষ উপন্যাসটিতে এই সব স্মৃতির জীবনায়ণ চিহ্নিত করা সম্ভব।’- কথাসাহিত্যিক শওকত আলীকে নিয়ে সেমিনারে এ কথা বলেন বক্তারা।

বুধবার জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘শওকত আলীর কথা সাহিত্য: সামাজিক স্মৃতি, স্বর, রূপান্তর’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

শওকত আলীর ৮৫তম জন্মবার্ষিকী ছিল ১২ ফেব্রুয়ারি এবং ২৫ জানুয়ারি ছিল লেখকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে সেমিনারের মধ্য দিয়ে বরেণ্য এই কথাসাহিত্যিককে স্মরণ করেছে জাতীয় জাদুঘর। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস।

অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘বাংলা কথাসাহিত্যের মানব অভিজ্ঞতালোকে শওকত আলী একটি নক্ষত্র বিন্দু। তাঁর কথাসাহিত্যে আমরা নানা আয়তনে, কাঠামো এবং অবয়বে কল্পনার যে বিন্যাস লক্ষ্য করি, তা তার স্মৃতি-সিমুলেশনের শব্দরূপ।’

প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক। জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিক।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, বাংলা কথাসাহিত্যের তিনটি আকর উপন্যাস- ‘উত্তরের খেপ’, ‘দক্ষিণায়নের দিন’ এবং ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’- এর মাধ্যমে বাংলা কথা সাহিত্যে শওকত আলী স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। পেশায় তিনি শিক্ষক হলেও নেশায় ছিলেন একজন প্রকৃত মানবতাবাদী ও সমাজ অনুসন্ধানী লেখক। সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের কথা তুলে এনেছেন নিজের রচনায়।

আরেফিন সিদ্দিক বলেন, শওকত আলী ছিলেন একজন স্বতন্ত্র দার্শনিক। তার চিন্তা-ভাবনায় ও প্রকাশের ভাষা ছিল মৌলিক। তিনি সমাজের শোষিত ও নিম্ন বর্গের মানুষের জীবনকে বিশ্লেষণ করেছেন।

বক্তারা বলেন, কথাসাহিত্যে একটি দেশের সামাজিক অগ্রগতিসহ সামগ্রিক উন্নয়ন, মানুষের সুখ দুঃখের চিত্র তুলে ধরা হয়। একজন সার্থক সচেতন কথাসাহিত্যিক হিসেবে তিনি ছিলেন অনন্য। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৯’এর গণ-অভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বাঙালির উথান-পতনকে লেখনীতে অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন।