রূপগঞ্জ ছাত্রলীগ সভাপতির বাবা হওয়ার খবরে নেতাকর্মীদের মনে ক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আলম শিকদার ছেলে সন্তানের বাবা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নতুন কমিটি না দেওয়ার বিতর্কের মধ্যে এ খবরে নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

ছাত্রলীগের কমিটিতে বিবাহিতদের থাকার সুযোগ নেই।

জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে রাজধানী ঢাকার আদদ্বীন হাসপাতালে ফয়সাল শিকদার ও তার স্ত্রীর কোলজুড়ে আসে পুত্র সন্তান। পুত্র সন্তান হওয়ায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের একাংশ ও পরিবারসহ আত্মীয়-স্বজনরা উল্লাস করেন। তবে পদে না থাকা নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।  

নেতাকর্মী ও ফয়সাল আলম শিকদারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, গত দেড় বছর আগে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের দেবই এলাকায় বিয়ে করেন রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আলম শিকদার। নিজের ছাত্রলীগের সভাপতি পদ টিকিয়ে রাখতে বিয়ের ব্যাপারটি গোপন রাখেন ফয়সাল আলম শিকদার। এরপর শুক্রবার ফয়সাল শিকদারের স্ত্রীকে রাজধানীর আদদ্বীন হাসপাতালে গর্ভবতী অবস্থায় ভর্তি করা হয়। শুক্রবার তিনি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন।   

নাম না প্রকাশ করার শর্তে উপজেলা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসমাইল রাসেল ২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এক বছরেরর জন্য ফয়সাল আলম শিকদারকে সভাপতি ও শেখ ফরিদ ভুইয়া মাসুমকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্যের রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করেন। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ১ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটিও গঠন করা হয়নি। এতে করে নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

তারা বলেন, আমরা অনেক বছর ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত রয়েছি। কেন্দ্রীয় ও জেলার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দিলেও এক বছর পেরিয়ে গেলে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ ছাড়া বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি ফয়সাল আলম শিকদার ছাড়া আরো বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী বিবাহিত হয়েও ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ বহন করছেন।

তাদের অভিযোগ, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল শিকদার পদে বহাল থাকতে বিয়ের কথা গোপন রাখেন। তারা নতুন কমিটি করার জোর দাবি জানান।    

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আলম শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছেলে সন্তান হওয়ার কথা শিকার করেছেন। তিনি তার ছেলের জন্য দোয়াও চান।

নতুন কমিটি বিষয়ে তিনি বলেন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটির দেওয়ার পর উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হবে। 

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেউ পদ পাওয়ার আগে বিয়ে করলে তাকে ছাত্রলীগে নেয়ার নিয়ম নেই। তবে কেউ পদ পাওয়ার পর বিয়ে করলে তাতে সাংগঠনিক কোনো সমস্যা নেই। নতুন কমিটি গঠন হলে তিনি আর থাকতে পারবেন না।

নতুন কমিটি গঠন বিষয়ে তিনি বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এক বছরের জন্য ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। সারা দেশেই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি রয়েছে।