বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে যুক্ত হতে চায় ইউরোপের দেশ বেলারুশ। দেশটি মূলত দুই দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়, বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং নিরাপত্তা বিষয়ে যুক্ত হতে চায়। এ জন্য তারা একটি চুক্তি সই করতে চায়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এজেন্সিগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি চূড়ান্ত করবে। গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা বেলারুশের শিল্পবিষয়ক উপমন্ত্রী দিমিত্রি খারিতনছি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। ছয় দিনের সফরে গত মঙ্গলবার তিনি ঢাকায় আসেন।
দিমিত্রি বলেন, বেলারুশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ নির্মাণের প্রথম ধাপের কাজ শেষ হয়েছে। রিঅ্যাক্টর তৈরি করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ বেলারুশের অভিজ্ঞতা জানার বিষয়ে আগ্রহী। বাংলাদেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভিজ্ঞতাও আমরা জানতে চাই। আসলে মূল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে আমাদের কথা হয়নি। কারণ এটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের কাজ। মূলত আমরা সুবিধাজনক ও কার্যকর অবকাঠামো কী হওয়া উচিত সেটি নিয়ে এবং বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার কীভাবে হতে পারে তা নিয়ে কথা বলেছি। এসবের পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তার বিষয় নিয়েও কথা হয়েছে। আপনাদের সবার মনে আছে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়ে চেরনোবিল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বিয়োগান্তক ঘটনা আগে ঘটেছিল। তাই এ বিষয়ে আমরা অনেক কথা বলেছি। কারণ অতীতের অভিজ্ঞতায় আমরা মনে করি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তার বিষয়টি জরুরি। নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সুরক্ষা যন্ত্রপাতি নিয়েও আমাদের আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে কার্যকর সহযোগিতার জন্য দুই দেশের মধ্যে চুক্তি করাটা জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি চূড়ান্ত করবে।’
বাংলাদেশে বেলারুশের রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই রেঝেওসস্কি বলেন, নির্মাণখাত, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি, বেলারুশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে সহযোগিতার সুযোগ আছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ মূলত তৈরি পোশাক রপ্তানি করে।