নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ময়লা-আবর্জনা অপসারণের নামে তীরের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করলেও শীতলক্ষ্যা নদীর কয়েকটি স্পটে দিনরাত চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। বন্দর খেয়াঘাট, ময়মনসিংপট্টি, চিত্তরঞ্জন ঘাটসংলগ্ন ভাসমান ডকইয়ার্ড পর্যন্ত শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে নদীর তীরে গভীর পর্যন্ত মাটি কেটে নেওয়ার ফলে নদীভাঙনের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। অন্যদিকে ইটভাটার ঠিকাদার সিন্ডিকেট দাবি করেছে, অনুমতি নিয়েই মাটি কাটা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নাসিক সিদ্ধিরগঞ্জের এনায়েতনগর এলাকার কফিলউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি নদীর পাড়ের ময়লা-আবর্জনার স্তূপ অপসারণের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক বরাবর একটি আবেদন করে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ মার্চ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের বন্দর ও পরিবহন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল স্বাক্ষরিত এক পত্রে ১৫টি শর্তে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাড়ের ভাসমান ডকইয়ার্ডের দক্ষিণ পাশের ময়লা-আবর্জনার স্তূপ নিজ খরচে কায়িক শ্রমে কোদাল দিয়ে অপসারণের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু আবর্জনার স্তূপ অপসারণের অনুমতি পেয়েই ভেকু যন্ত্র দিয়ে নদী তীরের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির মহোৎসব শুরু হয়। বন্দর থানার দেউলী চৌরাপাড়া বিআইডব্লিউটিসির ভাসমান ডকইয়ার্ডসংলগ্ন নদী তীরে গিয়ে দেখা গেছে মাটি কেটে নেওয়ার এক লুটের মচ্ছব। মাটি কাটা চক্রের কয়েকশ শ্রমিক ময়লা-আবর্জনা অপসারণ না করে নদীর তীরবর্তী স্থানে শীতলক্ষ্যা তীরের মাটি কেটে ট্রলার ও ট্রাকের মাধ্যমে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় ইটভাটায়। অপরিকল্পিতভাবে ১০-১২ ফুট গভীর গর্তের কারণে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে আশপাশের ঘরবাড়ি ও কলকারখানায়। এ সময় নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর ও পরিবহন বিভাগ, নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালনা প্রকৌশল বিভাগের কাউকে পাওয়া যায়নি। বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, আবর্জনা অপসারণের অনুমতি নিয়ে নদীর তীরের মাটি কেটে নেওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই। মাটি কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং কাটলে তা অন্যায়। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।